অদ্ভুত এক ঘটনা! চলে গেলেন আমাজনের “নিঃসঙ্গ রাজা”
টিভি ২০ বাংলা ডেস্ক :- জঙ্গলে রাজার মতো বিদায় নিলেন ‘পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃসঙ্গ ‘ সেই মানুষ। অন্তত ২৬ টা বছর সম্পূর্ণ একা কাটিয়েছিলেন আমাজনের গহীন অরন্যে। গত ২৩ অগাস্ট ওই বনবাসীর নিথর দেহ উদ্ধার করেছে ব্রাজিলের সরকারি নৃতাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থা ফুনাই।
গবেষকদের অনুমান, তাঁর মৃত্যুতে আরও একটা আদিম জনগোষ্ঠী বিদায় নিলো আমাজনের অরণ্য থেকে। কোন গোষ্ঠী সেটা ঠিক জানা যায়নি। মোটামুটি অনুমান করা যায়, কোনো এক সময়ে বলিভিয়ার সীমান্তের কাছে অবস্থিত ব্রাজিলের তানারু আদিবাসী এলাকার রন্দনিয়ায় বসবাস ছিল তাঁর।
বলা যায়, সত্তর আশির দশকে ব্রাজিলের বহু আদিবাসী গোষ্ঠীর মতো এঁরাও কৃষক, পশুপালক এবং জমিহাঙ্গরদের লাগাতার আক্রমণের শিকার হতে থাকেন। গবেষকদের দাবি, ১৯৯৫ সাল পর্যন্তও অন্তত সাত জন সদস্য বেঁচে ছিল ওই আদিম জনগোষ্ঠীর। জমির লোভে একদল ‘আধুনিক’ মানুষ তাঁদের উপরেও হামলা চালায়। কোনও ক্রমে প্রাণে বাঁচেন এই একজনই।
এরপর থেকেই গর্ত খুঁড়ে আর বন জঙ্গলে তাঁর বসবাস শুরু হয়। সেখানেই তিনি শিকড় আর ডালপালা দিয়ে এক দোলনা খাট বানিয়েছিলেন। আর সেই পর্ণকুটিরেই ২৬ টা বছর একা কাটিয়েদিলেন তিনি। মাঝখানে বহুবার তাকে সাহায্য করতে চেয়েছেন ফুনাই এর সদস্যরা। তাঁর বসবাস যেখানে ছিল সেই কুটিরের সামনে দেশলাই, কুঠার, খাদ্যশস্যর বিজও রেখে আসা হতো। কিন্তু বিরক্তি আর ভয়ঙ্কর অবিশ্বাসেই তিনি বারবার তা ফিরিয়ে দিয়েছেন।
ফুনাইয়ের দাবি, ওই আদিম মানুষের ছোড়া তীরেই তাদের এক সদস্যের ফুসফুস ফুটো হয়ে যায়। ঠিক এই ঘটনার পর থেকেই ওই অরণ্যবাসীকে স্বাধীন ভাবে থাকতে দেওয়া হয়। খোঁজ খবর অবশ্য নেওয়া চলতেই থাকে। সেই সূত্রেই পাওয়া গেলো হটাৎ তার মৃত্যুর খবর। যেদিন তার দেহ পাওয়া গেছে, তার কিছুদিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান করা হয়।

