স্বর্ণালী হালদার, হুগলি:— অধিকার বনাম অবহেলা — মিল নং-২-এর শ্রমিকদের ন্যায্যতার দাবি
বাঁশবেড়িয়া গ্যান্জেস ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি মিল নং-২-র কর্মী সম্প্রতি একটি নোটিশ দিয়ে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। নোটিশে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ও কাজের শর্ত নিয়ে বিস্তৃত অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে—শিফট পরিবর্তন, বেতন বকেয়া, অকারণে মামলা, এবং শ্রমিকদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাহীনতা। কর্মীরা বলেন, কোম্পানি একদিনে শিফট কমিয়ে দিয়েছে এবং কয়েকজন কর্মীকে বেতনবিহীন করে কাজে নিয়োজিত রাখছে; এতে পরিবার-জীবনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ আছে যে চোদ্দজন শ্রমিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছিল এবং পরে আদালতে তা খারিজ হলেও কোম্পানির আচরণ অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। শ্রমিকরা দাবি করেছেন দীর্ঘদিন ধরেই মেয়াদি চুক্তি, পেনশন ও অন্যান্য বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হয়নি; এ-লম্বা চুক্তিভঙ্গের ফলে মানুষের জীবন অস্হির হয়েছে। তারা উল্লেখ করেছেন যে যারা ২০ বছর পূর্ণ করেছেন তাদের স্থায়ীকরণ করা হোক এবং ১৫ বছরের কর্মজীবীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হোক; এছাড়া তৎক্ষণাৎ বকেয়া পরিশোধের দাবি জানানো হয়েছে। নোটিশে কোম্পানির কয়েকটি অনিয়মও তুলে ধরা হয়েছে—ব্যাটারিচালিত গাড়ি দিয়ে মাল পরিবহন, শ্রমিকদের ক্ষুদ্র ভাতার উপর নির্ভর করে রাখা এবং কর্মক্ষেত্রে স্বার্থবিবর্জিত ব্যবস্থাপনা। শেষ অংশে শ্রমিকরা প্রশাসন, স্থানীয় সমাজ ও গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ন্যায্য নিষ্পত্তি দাবি করেছেন এবং প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই নোটিশ শ্রমিক ঐক্য ও অধিকার রক্ষায় এক সংবেদনশীল ও সময়োপযোগী আহ্বান হিসেবে দেখা যায়। শ্রমিকরা বলছেন, বরাবরই মাননীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে, কিন্তু কথিত প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি পূরণ হয়নি। তারা আশা করছেন স্থানীয় শ্রম দফতর ও আদালত দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে এবং কোম্পানিকে আদালত-নির্ধারিত শর্ত মানতে বাধ্য করা হবে।
নিষ্পত্তি না হলে জমায়েত, ধর্মঘট ও জনসম্মুখ সজাগ অবস্থানসহ পরবর্তী কর্মসূচি নেয়া হবে বলে নেতারা জানান। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও মানবিক শর্ত নিশ্চিত না হলে স্থানীয় অর্থনীতিও প্রভাবিত হবে, তাই সব পক্ষকে টেবিলে বসে সমাধান করতে অনুরোধ করেছে শ্রমিক সংগঠন। আদালত ও প্রশাসনের নজরে এই বিষয় উঠলে দ্রুত ন্যায়পরায়ের সিদ্ধান্ত আশা করা যায়। সমাধান উৎসাহিত করতে সকলের দায়িত্ব।

