আজ প্রজাতন্ত্র দিবস – ভারতীয় সংবিধান ও আমাদের প্রতিজ্ঞা
প্রজাতন্ত্র দিবসকে আমরা সংবিধান দিবস হিসাবেও বিবেচনা করি। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতের কেন্দ্রীয় গণপরিষদ ভারতীয় সংবিধানকে মান্যতা দিয়ে এই দিনটিকে ‘প্রজাতন্ত্র দিবস’ হিসাবে ঘোষণা করে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম লিখিত সংবিধান। যেকোনো সংবিধানের প্রস্তাবনা, ভূমিকা বা প্রিয়াম্বেলে সেই স সংবিধানের মৌলিক ভাবনা প্রকাশ পায়।
প্রথমে আমাদের সংবিধানের প্রস্তাবনায় সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক, প্রজাতন্ত্র হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সময় জাতীয় কংগ্রেস ‘সমাজতান্ত্রিক’ ও ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দদু’টি যোগ করেন।
তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ার অনুপ্রেরনায় ‘সমাজতান্ত্রিক’ শব্দটিকে প্রবেশ করানো হয় বলেই অনেকে মনে করেন। আর ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দটি ভারতের মতো বহুধর্মের দেশে খুবই প্রযোজ্য ছিল। ভারতে হিন্দু, ইসলাম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন,আদিবাসী ধর্ম ও ধর্মহীন(নাস্তিক্য) ধর্মের মানুষের বসবাস। সর্বশেষ পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, ভারতে
হিন্দুধর্ম (৭৯.৮%)
ইসলাম (১৪.২%)
খ্রিস্টধর্ম (২.৩%)
শিখধর্ম (১.৭%)
বৌদ্ধধর্ম (০.৭০%)
আদিবাসী (সর্নামিজম, বন, এনিমিজ, কিরাত মুন্ধুম, ডনি-পোলো) (০.৫০%)
জৈনধর্ম (০.৪০%)
ধর্মহীন (নাস্তিক, অজ্ঞাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষ এবং উত্তরহীন) (০.২৫%)।
তাই স্বভাবিক কারণেই আমাদের সংবিধানে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দটা খুবই প্রাসঙ্গিক।
এই মুহূর্তে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ যা ঘটে চলেছে, তাতে আমাদের সন্ত্রস্ত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। ওখানে একদিকে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার হচ্ছে, অন্যদিকে দেশটিকে ইসলাম ধর্মের দেশ বানাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একদল ধৰ্মীয় মৌলবাদী মানুষ। তাই আমাদের সচেতন থাকতে হবে যে কোনো কারণেই যেন বাংলাদেশের মতো আমাদের মতো মহান দেশে সংখ্যাগুরু ধৰ্মীয় মৌলবাদ মাথাচারা দিতে না পারে। আর এটাও হোক আমাদের আজকের প্রতিজ্ঞা।

