Saturday, April 18, 2026
- Advertisement -

আদি-নব্য দ্বন্দ্বে লণ্ডভণ্ড বিজেপি কার্যালয়, আলিপুরদুয়ারে তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ

- Advertisement -

 

আদি-নব্য দ্বন্দ্বে লণ্ডভণ্ড বিজেপি কার্যালয়, আলিপুরদুয়ারে তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ

অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: গণতন্ত্রের উৎসবে প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্র করে আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপির অন্দরে যে চরম বিসংবাদ তৈরি হয়েছিল, তা এক নজিরবিহীন আকার ধারণ করে। দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠ কর্মীদের পাশ কাটিয়ে অন্য দল থেকে আসা নেতাকে গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগে দলীয় কার্যালয়ে যে ধ্বংসলীলা চলে, তা বঙ্গ রাজনীতির অন্দরে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে জনসমক্ষে নিয়ে আসে। ক্ষোভের আগুন এতটাই তীব্র ছিল যে, তা শুধু স্লোগানে সীমাবদ্ধ না থেকে দলীয় কার্যালয়ের ইট-পাথর ও আসবাবপত্রের ওপর আছড়ে পড়ে।

১৬ই মার্চ ২০২৬, সোমবার রাতে বিজেপি ১৪৪ জন প্রার্থীর প্রথম তালিকা প্রকাশ করে । এই তালিকায় আলিপুরদুয়ার আসনের প্রার্থী হিসেবে পরিতোষ দাসের নাম ঘোষণা করা হয়। প্রার্থী বাছাইয়ে অসন্তোষে আলিপুরদুয়ারে নিজেদের অফিসেই হামলা চালাল ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা।আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রে পরিতোষ দাসকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার প্রতিবাদে কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তিনি দলের দীর্ঘদিনের পুরনো কর্মী নন এবং শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ। তারা কোনো ভূমিপুত্র বা দীর্ঘদিনের লড়াকু নেতাকে প্রার্থী করার দাবি জানান। এমনকি শুরু করে বিধ্বংস । দমকল মোড়ে অবস্থিত বিজেপির জেলা কার্যালয়ে একদল কর্মী হামলা চালিয়ে চেয়ার, টেবিল এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। তালিকা প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটে ।সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে বিক্ষোভের সময় শ্রীরামের ছবিতে লাথি মারার মতো বিতর্কিত ঘটনাও চোখে পড়ে।অফিস ভাঙচুরের পাশাপাশি ক্ষুব্ধ কর্মীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান এবং অবরোধ করেন, যার ফলে স্থানীয় যান চলাচল ব্যাহত হয়।বিজেপির রাজ্য সম্পাদক দীপক বর্মন ঘটনাটিকে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির কোন্দলকে কটাক্ষ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা নেতৃত্ব মঙ্গলবার দীর্ঘ বৈঠক করেছে।

বিক্ষোভের সময় বিজেপি জেলা সভাপতি মিঠু দাসকে কর্মীরা রাত ১টা পর্যন্ত অফিসের ভেতরে আটকে রেখেছিলেন । পরে তিনি জানান যে কর্মীদের অভিযোগ রাজ্য নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। সোমবার রাতের তাণ্ডবের পর, মঙ্গলবার সকালেও কর্মীরা জেলা কার্যালয়ের সামনে কালো ব্যাজ পরে মৌন প্রতিবাদ জানান এবং প্রার্থী বদলের দাবি তোলেন। প্রার্থী পরিতোষ দাস এই বিক্ষোভকে রাজনীতির স্বাভাবিক অংশ বলে অভিহিত করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে নির্বাচনের আগে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করবেন ।

আলিপুরদুয়ারের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, প্রার্থী বাছাইয়ে নিচুতলার কর্মীদের আবেগকে গুরুত্ব না দিলে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে পারে। আদি ও নব্য বিজেপির এই সংঘাত নির্বাচনের মুখে দলের ভাবমূর্তিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তেমনি নিবিড় সংগঠনের অভাবকেও জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার, ক্ষুব্ধ কর্মীদের মানিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব এই ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে কতটা সফল হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments