আবারও চ্যাম্পিয়ন: নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে শিরোপা ধরে রাখল ভারত
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: তেইশের কান্না মুছলো ছাব্বিশে।
নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের গ্যালারি জুড়ে থাকা লক্ষাধিক মানুষের চিৎকারের সাক্ষী থেকে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে উড়িয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মুকুট ধরে রাখল টিম ইন্ডিয়া। আমেদাবাদের বাইশ গজে কেবল ভারতেরই দাপট।সঞ্জু স্যামসনের বিধ্বংসী ব্যাটিং আর জাসপ্রিত বুমরাহ-র আগুনের গোলার মতো বোলিংয়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল নিউজিল্যান্ড।
৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই শিরোপা জিতল ভারত। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের হারের ক্ষত মুছে এই জয় ভারতীয় ক্রিকেটে এক ঐতিহাসিক অধ্যায় তৈরি করেছে।
টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে সঞ্জু স্যামসনের বিধ্বংসী ৮৯ (৪৬ বল), অভিষেক শর্মার ৫২ (২১ বল) এবং ঈশান কিষাণের ৫৪ (২৫ বল) রানের ওপর ভর করে ভারত বিশাল স্কোর খাড়া করে।
বিশাল রানের পাহাড় তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের তোপের মুখে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ভারত এই প্রথমবার আয়োজক দেশ হিসেবে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়ল।
আমেদাবাদের এই জয় কেবল একটি ট্রফি জয় নয়, বরং এটি ছিল ভারতীয় ক্রিকেটের অদম্য জেদ এবং প্রত্যাবর্তনের গল্প। নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে ভেসে আসা লক্ষ লক্ষ মানুষের গগনবিদারী উল্লাস জানান দিচ্ছিল যে, ২০২৩-এর সেই অপূর্ণ স্বপ্ন অবশেষে পূর্ণতা পেয়েছে।
এই বিশ্বজয়ের মাধ্যমে ভারতীয় দল আবারও প্রমাণ করল যে তারা কেন বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা শক্তি। সঞ্জু-অভিষেকদের মতো তরুণ প্রতিভা এবং বুমরাহর মতো অভিজ্ঞ সেনানিদের মেলবন্ধনে ভারত যে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করল, তা আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের কাছে এক বিশাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। বিশ্বমঞ্চে তেরঙ্গার এই গৌরবগাথা ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।

