“আমি সবার বিধায়ক নই, আমি শুধু হিন্দুদের বিধায়ক” – শুভেন্দু
এটাই বাকি ছিল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে। সেটাই হয়ে গেলো। বুধবার রাতে এক ভয়ঙ্কর সম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রকাশ্যে জন্ম হলো নন্দীগ্রামে। শিবরাত্রির দিন সনাতনী ভক্তদের ফল বিতরণের সময় মঞ্চ থেকে এমনটাই বললেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘আমি হিন্দুদের বিধায়ক।’ এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘যে গরু দুধ দেয় তার লাঠি খেতে আমি প্রস্তুত’ এই জাতীয় সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করেছেন। কিন্তু কিছুটা আড়াল আবডাল করে সাম্প্রদায়িকতা।
কিন্তু শুভেন্দু কোনো আড়াল রাখলেন না। বুধবার রাতে নন্দীগ্রামের সোনাচূড়ায় শিবরাত্রি উপলক্ষে গিয়েছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। সনাতনী ভক্তদের ফল বিতরণের পর এদিন মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমাকে হিন্দুরা জিতিয়েছেন, তাই আমি হিন্দু হিতে কাজ করব। যাঁরা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাঁরা হিন্দু। অন্য কারও বিধায়ক আমি নই। আমি সকলের বিধায়ক নই, আমি শুধু হিন্দুদের বিধায়ক।” এর পরে রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষের সন্ত্রস্ত হওয়া কি অস্বাভাবিক?
সেই সভাতেই CBI এর চার্জশিটে ‘জনৈক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়’ প্রসঙ্গে তিনি মুখ খোলেন। এদিকে, বুধবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃতীয় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই। আর সেই চার্জশিটে জনৈক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম আছে। সেই প্রসঙ্গে এদিন শুভেন্দু বলেন, উনি সঞ্জয় বোসকে দিয়ে চিঠি না করিয়ে যদি ক্ষমতা থাকে তাহলে সরাসরি সিবিআই-কে চিঠি দিন।” অভিষেক প্রসঙ্গ কোর্টে ঠিক হবে। কিন্তু একটা ধর্ম নিরপেক্ষ দেশের অঙ্গরাজ্যে এই জাতীয় মন্তব্য কিন্তু খুবই অশুভ ইঙ্গিত বলেই নাগরিক মহল মনে করেন।

