Sunday, March 8, 2026
- Advertisement -

উচ্চ ফলনশীল সর্ষে চাষের পথপ্রদর্শক রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন

- Advertisement -

মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙ্গা -১ ব্লক রাজ্যের অন্যতম সর্ষে চাষের এলাকা হিসেবে সুপরিচিত। সর্ষের পাশাপাশি মরশুমি সবজি, পাট, তিল এবং পশুপালন গ্রামবাসীর মূল জীবিকা। পাশাপাশি এই জেলার নির্মাণকর্মীর সুনাম ও দক্ষতা সর্বজনবিদিত। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন এই ব্লকে ধারাবাহিকভাবে মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা সহ কৃষি ও পশুপালনের মাধ্যমে জীবিকা বিকাশ কার্যক্রম গ্রহণের আগে অবশ্য সর্ষে চাসে যুক্ত কৃষকরা মূলতঃ আধুনিক ও ব্যয় সাশ্রয়ী কৃষি সম্পর্কে বিশেষ অবগত ছিল না। ফলে পুঁজি বিনিয়োগ ও পরিশ্রমের তুলনায় মুনাফার পরিমান অনেকটাই কম ছিল। বেলডাঙা-১ ব্লকের হালালপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষকরা আজ রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন-এর প্রশিক্ষণ সহায়তায় বাণিজ্যিকভাবে সর্ষে চাষ করে উৎপাদনের পরিমান প্রায় দ্বিগুন করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি ক্রিস্টাল ক্রপ প্রোডাকশন লিমিটেডের সাথে যৌথ উদ্যোগে পরিবেশ বান্ধব উচ্চ ফলনশীল সর্ষে চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। আজ আমরা হালালপুর গ্রামের এমনই একজন উপকৃত সফল সর্ষে চাষী প্রশান্ত মন্ডল এর সাফল্যের কাহিনী তুলে ধরবো।

অষ্টম মান উত্তীর্ণ প্রশান্ত মন্ডলের (৩৬) জীবন জীবিকা সম্পূর্ণ ভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল। পরিবারের সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ৪-জন। প্রশান্তর মোট কৃষি জমি ৬-বিঘা, অর্থাৎ ২-একর। মূল বাণিজ্যিক ফসল সর্ষে, গম, পাট, তিল এবং বিভিন্ন মরশুমি সবজি, বিশেষ করে ঢ্যাঁড়শ ও গাজর। প্রশান্ত রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন-এর প্রশিক্ষণ, হেল্পলাইন পরিষেবা সহ বিভিন্ন প্লাটফর্মের সম্পর্কে অবগত হন ২০২২ সালে একটি সচেতনতা শিবিরের মাধ্যমে। বর্তমানে এই ফাউন্ডেশন পরিচালিত ডিজিটাল ফার্ম স্কুলের একজন সক্রিয় এবং প্রগতিশীল কৃষক। কৃষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কৃষি সম্পর্কিত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি রিসৌর্স এজেন্সি এবং রিসার্চ সেন্টারের সাথে সমন্বয় সাধন বা কনভার্জেন্স করার এই ডিজিটাল ফার্ম স্কুলের অন্যতম উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি কৃষিতেআগ্রহী মহিলা কৃষকদের বিগত রবি মরশুমে উচ্চ ফসলনশীল বেগুন, লংকা ও টমেটোর বীজ দেওয়া হয়েছে। আর এই কনভার্জেন্স এর মাধ্যমেই উচ্চ ফলনশীল সর্ষে চাষ করে মুনাফার পরিমান বাড়িয়েছেন প্রশান্ত।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ক্রিস্টাল ক্রপ প্রোডাকশন লিমিটেডের সাথে যৌথ উদ্যোগে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন উচ্চ ফলনশীল সর্ষে চাষে উদ্যোগী হয়। হালালপুর গ্রামের ২০-জন ডিজিটাল ফার্ম স্কুলের কৃষক কে ৩৫০ গ্রাম করে কেশরী গোল্ড জাতের সর্ষের বীজ দেওয়া হয়। লক্ষ্য ১-বিঘা জমিতে এই নতুন ধরণের বীজের সর্ষে ফলিয়ে লাভের অংক বৃদ্ধি করা। আমাদের প্রশান্তও অন্যতম উপভোক্তা। কেশরী গোল্ডের আগে প্রশান্ত দেশি স্থানীয় দেশি বীজ ব্যবহার করতেন। এই বীজে এক বিঘা জমিতে সর্ষের উৎপাদন হতো প্রায় দুই কুইন্টাল। বীজ বোনা থেকে ফসল ফলতে সময় লাগতো ১১৫-১২০ দিন। প্রতি ১০-কেজি সর্ষে থেকে তেল উৎপাদন হতো সাড়ে তিন কেজি, অর্থাৎ ৩৫%। এই জাতের গাছ ছোট হতো এবং পোকার আক্রমণের সম্ভাব্যতা বেশি বেশি। এমতাবস্থায় ক্রিস্টাল ক্রপ প্রোডাকশন লিমিটেডের সহায়তায় কেশরী গোল্ডের বীজ ব্যবহার করে এ বছর উৎপাদন হয়েছে ৬-কাঠা জমিতে ১-কুইন্টাল, অৰ্থাত এক বিঘার হিসেবে প্রায় ৩-কুইন্টাল। কেশরী গোল্ডের ১০-কেজি সর্ষেতে তেলের উৎপাদন হয় চার কেজি, অর্থাৎ ৪০%। পাশাপাশি কেশরী গোল্ডের গাছে পোকার আক্রমণ নেই বললেই চলে। কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ সরবরাহ করা ছাড়াও রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে হাতে কলমে বীজ বপন থেকে ফসল উৎপাদন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায় প্রয়োজনীয় খুঁটিনাটি বিষয়, বিশেষ করে জমি তৈরি, জলের ব্যবহার, সারের ব্যবহার, কীট নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য তথ্য পরিষেবা দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে। কেশরী গোল্ডের সর্ষের ফলন হতে সময় নিয়েছে মাত্র ১০০-১০৫ দিন। অর্থাৎ প্রথাগত জাতের বীজের থেকে চাষীর ফসল ফলানোর সময় সময় বাঁচছে প্রায় এক পক্ষকাল।

রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের কনভার্জেন্স কর্মসূচিতে উপকৃত প্রশান্ত মন্ডলের কথায় “” আমাদের গ্রাম বাংলার কৃষকদের কাছে আধুনিক ও যুগোপযোগী কৃষি পদ্ধতি একেবারেই অজানা। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের ডিজিটাল ফার্ম স্কুল
এই দূরত্ব মিটিয়ে কৃষিকে করেছে সুস্থায়ী এবং লাভজনক। কৃষকদের কাছে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন প্রকৃত অর্থেই কৃষকবন্ধু”””।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments