স্বর্ণালী হালদার, কলকাতা:— উত্তরায়ণের সূর্য আর পিঠে-পুলির গন্ধে মকর সংক্রান্তি মানেই নতুন শুরুর আনন্দ
—মকর সংক্রান্তি: নতুন সূর্যের আহ্বানে উৎসবের রোশনাই
মকর সংক্রান্তি ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও তাৎপর্যপূর্ণ উৎসব। এই দিনে সূর্য মকর রাশিতে প্রবেশ করে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় উত্তরায়ণের সূচনা। দীর্ঘ শীতের অবসান ঘটিয়ে প্রকৃতিতে আসে নতুন উষ্ণতা, নতুন জীবনের স্পন্দন। তাই মকর সংক্রান্তি শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি প্রকৃতি ও মানুষের মিলনের উৎসবও বটে।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এই উৎসব নানা নামে পরিচিত—পশ্চিমবঙ্গে পৌষ সংক্রান্তি, অসমে ভোগালী বিহু, তামিলনাড়ুতে পোঙ্গল, গুজরাতে উত্তরায়ণ। নাম আলাদা হলেও মূল ভাব এক—কৃতজ্ঞতা ও আনন্দ। কৃষিজীবী সমাজের কাছে এই দিনটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নতুন ফসল ঘরে ওঠার আনন্দে ভরে ওঠে প্রতিটি বাড়ি। ধান, তিল, গুড় দিয়ে তৈরি হয় পিঠে-পুলি, পায়েস, লাড্ডু—যা আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়।
পশ্চিমবঙ্গে পৌষ সংক্রান্তি মানেই গঙ্গাসাগর মেলা। লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নান করে সূর্যদেবের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা জানান। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে দান করলে তার ফল বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তাই খাদ্য, বস্ত্র ও অন্নদান এই উৎসবের অঙ্গ হয়ে উঠেছে।
মকর সংক্রান্তি আমাদের শেখায় একসঙ্গে থাকার মূল্য। সামাজিক বিভাজন ভুলে মানুষ এই দিনে মিলিত হয় উৎসবের আনন্দে। ঘুড়ি ওড়ানো, গান-বাজনা, লোকাচার—সব মিলিয়ে গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র উৎসবের রং লেগে যায়। নতুন সূর্যের আলোয় পুরনো ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে মানুষ এগিয়ে যায় নতুন আশায়, নতুন স্বপ্নে।

