উন্নয়ন যখন তাসের ঘর: মসাগ্রামের ধস শিখিয়ে গেল বড় পাঠ।
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা:— মাত্র ৬ মাসও কাটেনি । বডবড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল পূর্ব বর্ধমানের মসাগ্রাম। সম্প্রসারণের কাজ শেষ হতে না হতেই ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের সার্ভিস রোডের বিশাল অংশ ধসে যাওয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। নিম্নমানের কাজ নাকি প্রাকৃতিক কারণ— এই প্রশ্ন তুলে এখন ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিত্যযাত্রীরা। মসাগ্রাম সংলগ্ন জাতীয় সড়কের ধারে প্রায় ৪০ ফুট লম্বা একটি গার্ড ওয়াল বা সুরক্ষা প্রাচীর হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। রাস্তার তলার ছাই ও মাটি ধসে যাওয়ায় সার্ভিস রোডটি বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। ঘটনার পরেই ওই রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তড়িঘড়ি কাজ শেষ করতে গিয়ে গুণমানের সাথে আপস করা হয়েছে, যার ফলে এই বিপত্তি। বর্তমানে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI) এলাকাটি ঘিরে রেখে মেরামতির কাজ শুরু করেছে এবং এই ধসের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
মেমারি থানার অন্তর্গত সরডাঙ্গা মোড় এলাকায় এইকলকাতা-বর্ধমান লেনের একটি ফ্লাইওভারের রিটেনিং ওয়াল বা গার্ড ওয়াল হঠাৎই ধসে পড়ে। ঘটনার সময় রাস্তায় দ্রুতগতিতে যানবাহন চলাচল করছিল, তবে কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি । খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আজাপুর ক্রসিং থেকে যান চলাচল ঘুরিয়ে দেয় ।অংশটি পুনরায় চলাচলের উপযোগী করতে কমপক্ষে এক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
উন্নয়নের ইমারত যদি নড়বড়ে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তবে তা যে কোনো সময় মরণফাঁদ হয়ে উঠতে পারে। জাতীয় সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় মাত্র কয়েক মাসের মাথায় দেওয়াল ধসে পড়া কেবল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ত্রুটি নয়, বরং জননিরাপত্তার প্রশ্নে এক বিরাট অবহেলা। আধুনিকীকরণের নামে তড়িঘড়ি কাজ শেষ করার যে প্রতিযোগিতা চলছে, তার আড়ালে কি তবে মানবিক সুরক্ষা ঢাকা পড়ে যাচ্ছে? এই ধস কেবল ইটের দেওয়ালের নয়, বরং সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক আস্থারও ধস। তাই কেবল জোড়াতালি দিয়ে মেরামত নয়, দরকার আগাগোড়া স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পথচারীকে এমন ‘অদৃশ্য বিপদের’ মুখে পড়তে না হয়।

