উৎসবের তিলোত্তমা: পার্কস্ট্রিটে জনজোয়ার আর বড়দিনের উষ্ণতা,ক্রিসমাসে পার্কস্ট্রিটে হাঁটাই কলকাতার সবচেয়ে উষ্ণ উৎসব
স্বর্ণালী হালদার,কলকাতা :— কনকনে শীতের আমেজকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে জনজোয়ারে ভাসছে তিলোত্তমা। বড়দিন মানেই কলকাতার কাছে এক আলাদা আবেগ, আর সেই আবেগের কেন্দ্রবিন্দু অবশ্যই পার্কস্ট্রিট। আলোর রোশনাই আর মানুষের ভিড়ে রাজপথ আজ উৎসবের রঙিন ক্যানভাস। বিস্তারিত থাকছে আমাদের এই বিশেষ প্রতিবেদনে।
শীতের হাড়কাঁপানো ঠান্ডাকে হার মানিয়েছে তিলোত্তমার প্রাণের স্পন্দন। চারিদিকে নীল-সাদা আলোর মালায় সেজে উঠেছে। তবে শুধু আলো নয়, এই উৎসবের আসল রঙ মিশে আছে সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাসে। সত্যি বলতে— আলো, সুর আর হাসির ভিড়ে, এই ক্রিসমাসে পার্কস্ট্রিটে হাঁটাই কলকাতার সবচেয়ে উষ্ণ উৎসব।
—২৫শে ডিসেম্বর এলেই কলকাতার পার্কস্ট্রিট নতুন রূপে ধরা দেয়। আলো-সাজ, সঙ্গীত আর মানুষের হাসিতে শহরের এই প্রিয় রাস্তাটি হয়ে ওঠে এক খোলা উৎসবমঞ্চ। ক্রিসমাসে পার্কস্ট্রিটে হাঁটা মানেই আনন্দকে ছুঁয়ে দেখা।
সকাল থেকেই ঝলমলে আলোয় সেজে ওঠে পার্কস্ট্রিট। গির্জার ঘণ্টাধ্বনি, ক্যারোল গানের সুর আর কেক-চকলেটের সুগন্ধ বাতাসে মিশে থাকে। বন্ধু-পরিবার নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়ে সান্তা টুপি পরা শিশুদের উচ্ছ্বাস, পথজুড়ে রেস্তোরাঁর বিশেষ সাজ আর ছবি তোলার ভিড়।
রাস্তার দু’ধারে আলোর ইনস্টলেশন আর লাইভ মিউজিক হাঁটাকে করে তোলে স্মরণীয়। সন্ধ্যা নামলেই আলোর রোশনাই আরও উজ্জ্বল—পার্কস্ট্রিট যেন রূপকথার পথে পরিণত হয়।
ক্রিসমাসে পার্কস্ট্রিটে হাঁটা শুধু বেড়ানো নয়, এটি কলকাতার উৎসব-সংস্কৃতির এক অনন্য অভিজ্ঞতা। ২৫শে ডিসেম্বর ২০২৫-এ এই হাঁটা মনে করিয়ে দেয়—আনন্দ ভাগ করলে শহর আরও সুন্দর হয়।
ছোটদের হাতে বেলুন, কেকের দোকানগুলোতে লম্বা লাইন, রাস্তার মোড়ে মোড়ে বাজতে থাকা ক্রিসমাস ক্যারল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক মহামিলনের মেলা বসেছে পার্কস্ট্রিটের ফুটপাতে। কারো মাথায় সান্তা টুপি, কেউ বা ব্যস্ত প্রিয়জনের সাথে ফ্রেমবন্দি হতে। রেস্তোরাঁগুলোর বাইরে লম্বা লাইন মনে করিয়ে দিচ্ছে, বাঙালির উৎসব মানেই পেটপুজো আর আড্ডা। গির্জার ঘণ্টার শব্দ আর রাস্তার ধারের গিটারিস্টদের সুর যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে এই রাজপথে।
ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন, কিন্তু মানুষের মুখে ক্লান্তির ছাপ নেই। কারণ, এই ভিড়েই মিশে আছে হাজারো মানুষের হাসি আর নতুন বছরের স্বপ্ন। পার্কস্ট্রিট যেন আজ শুধু একটি রাস্তা নয়, বরং কলকাতার ঐতিহ্যের এক পরম উষ্ণতার নাম।

