একসময় যা ভাবা অসম্ভব ছিল, আজ তা বাস্তব
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা : নারী শক্তি । নারী শক্তি মানে কেবল অধিকার নয়, নারী শক্তি মানে প্রতিটি ক্ষেত্রে সমান সুযোগ । কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই।ঘরের চার দেয়াল থেকে শুরু করে মহাকাশ গবেষণা সবখানেই নারীরা তাঁদের দক্ষতার ছাপ রাখছেন। ধৈর্য, ত্যাগ এবং ব্যবস্থাপনার গুণে তাঁরা পরিবারকে এক সুতোয় বেঁধে রাখেন , তেমনি পুরো রাষ্ট্র সামলানোর ক্ষমতাও রাখে।
ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, “শিক্ষিত ও ক্ষমতায়িত নারীরাই প্রগতিশীল জাতির স্তম্ভ”।পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নারী দিবসে শুভেচ্ছা জানিয়ে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ সহ রাজ্যে নারীদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুফল তুলে ধরেন। এছাড়াও ভারতের বিএফএসআই (BFSI) সেক্টরে কর্মরত নারীদের জন্য ২ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ সুযোগ রয়েছে।
১৯০৮ সালে নিউ ইয়র্কের রাস্তায় নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের যে লড়াই শুরু হয়েছিল, ১৯১৭ সালে রাশিয়ার নারীদের ‘রুটি ও শান্তি’র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তা এক ঐতিহাসিক রূপ পায়। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে নারী দিবসের এই তাৎপর্য কেবল এক দিনের উদযাপনে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীর মেধা, ধৈর্য ও নেতৃত্বের জয়গান গাওয়ার একটি বৈশ্বিক মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
সভ্যতার চাকা সচল রাখতে নারীর অবদান অনস্বীকার্য। তবে নারী শক্তির এই জয়গান কেবল ক্যালেন্ডারের একটি বিশেষ দিনে আটকে না রেখে, তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে আমাদের প্রাত্যহিক মানসিকতায়। সমাজে নারী পুরুষ দুই কেই সমান মর্যাদা সমান দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হোক।

