Thursday, December 11, 2025
- Advertisement -

এবার চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলো বিজেপি প্রার্থীর স্বামী সিভিক ভলেন্টিয়ারকে

- Advertisement -

প্রতিনিধি মাধব দেবনাথ, নদীয়া:- পঞ্চায়েত সমিতিতে জয়লাভ করার পর একাধিকবার শাসক দলে যোগদান করার হুমকি। কখনো টাকার প্রলোভন কখনো প্রাণে মারার হুমকি। তাতেও রাজি না হওয়ায় এবার চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলো বিজেপি প্রার্থীর স্বামী সিভিক ভলেন্টিয়ার কে। নদীয়ার শান্তিপুর থানার ঘটনা। ২০১৩ সাল থেকে নদীয়ার শান্তিপুর থানার হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্য কলোনী এলাকার বাসিন্দা কার্তিক হালদার শান্তিপুর থানায় সিভিক ভলেন্টিয়ার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। তার স্ত্রী সুপর্ণা বর্মন ওই এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে এলাকায়। এবারের পঞ্চায়েত সমিতির নির্বাচনে ওই এলাকার বিজেপি তরফ থেকে সমিতির টিকিটে প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি জয়লাভ করেছিলেন বিজেপির হয়ে। শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির মোট ২৯ টি আসনের মধ্যে ১৬ টি আসনে বিজেপি জয়লাভ করে এবং ১৩ টি আসন তৃণমূলের দখলে থাকে। ভোট গঠন না করতে পারার আশঙ্কা করে বিভিন্নভাবে জয়ী পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থীদের হুমকি দেখাতে থাকে। সুপর্ণা বর্মনকেও ভোটে জেতার আগের থেকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ভোটে জেতার পর তৃণমূল এবং প্রশাসন যৌথভাবে তার স্বামীকে ডেকে বিভিন্নভাবে হুমকি এবং টাকার প্রলোভোন দেখাতে থাকে। অভিযোগ উঠে ভোটের আগেই উদ্দেশ্যপ্রণীতভাবে বিজেপি প্রার্থীর স্বামী সিভিক ভলেন্টিয়ার কে দূরের থানায় ডিউটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, শান্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক তিনি নিজেই এসে সিভিক ভলেন্টিয়ার কে ডেকে তৃণমূলে যোগদানের বিষয়ে কথা বলেন। অবশেষে তৃণমূলে যোগদান না করায় গত সাত তারিখে ওই সিভিক ভলেন্টিয়ার কে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

এ বিষয়ে ওই সিভিক ভলেন্টিয়ার কার্তিক হালদার বলেন, আমার স্ত্রী যেহেতু বিজেপির সমিতি পদপ্রার্থীদের জয়লাভ করেছে সেই কারণেই শাসক দল এবং প্রশাসনের তরফ থেকে দফায় দফায় হুমকি দেখায় আমাদের। প্রশাসনের তরফ থেকেও আমাকে ডেকে বলা হয় তৃণমূলে যোগদান করার কথা। যেহেতু আমরা ওই কথাতে রাজি হয়নি সেই কারণেই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করে আমার চাকরিটা নিয়ে নিল প্রশাসন। এ বিষয়ে এসপি সাহেবকে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন সিভিক ভলেন্টিয়ার।
অন্যদিকে চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ নিয়ে বিজেপির সমিতির প্রার্থী সুপর্ণা বর্মন বলেন, আমি সমিতির প্রার্থী হয়ে ভোটে দাঁড়ানোর পর থেকেই বিভিন্ন দিক থেকে হুমকি আসছিল। ভোটে জেতার পর প্রশাসন এবং শাসক দলের তরফ থেকে দফায় দফায় প্রাণে মারার হুমকি এবং টাকার প্রলভোন দেখানো হচ্ছিল। আমরা রাজি না হওয়ায় অবশেষে আমার স্বামী চাকরিটা চলে গেল।

তৃণমূলের তরফ থেকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কথা অস্বীকার করে শান্তিপুরের বিধায়ক ব্রজ কিশোর গোস্বামী বলেন, তিনি একমাস ধরে কোথায় ছিলেন কেন ডিউটি করেননি। যদি প্রশাসনিক চাপে এবং শাসকদলের ভয়ে ডিউটি না করে থাকেন তাহলে আগে কেন অভিযোগ জানায়নি। যেহেতু এক মাস ধরে কাজ করেন তিনি সেই কারণে প্রশাসনিক নিয়মে ই যা সিদ্ধান্ত নেয়া নিয়েছে।। এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনো সম্পর্ক নেই। আর বিজেপি থেকে যে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা পুরোটাই ভিত্তিহীন।

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিজেপি সংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, শান্তিপুর থানার ওসি তৃণমূলের প্রমোশন নিয়ে এসেছেন। এর আগেও আমরা একাধিক বার বলেছি তিনি তৃণমূলের দলদাস হয়ে কাজ করছেন। একজন প্রশাসনের আধিকারিক হিসেবে কিভাবে শাসক দলে যোগদানের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এই ঘটনা নিয়ে বড় পদক্ষেপে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেন রানাঘাট জেলা পুলিশ সুপার ডক্টর কে কান্নান তিনি বলেন সিভিক ভলেন্টিয়ার একটি টেম্পোরারি কাজ। সেখানে ডিউটি না করলে স্বাভাবিকভাবেই চলে যাওয়ার একটা আশঙ্কা থাকে। যেহেতু এক মাস ধরে ওই সিভিক ভলেন্টিয়ার কাজে যোগদান করেনি সেই কারণে প্রশাসনিক নিয়ম মেনে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments