ওবিসি জটে সাময়িক সুপ্রিম স্থগিতাদেশ, তড়িঘড়ি জয়েন্ট এন্ট্রান্সের ফলপ্রকাশ
মনিপুষ্পক খাঁ, নিউজ ডেস্ক : সাময়িক ভাবে ওবিসি জট কিছুটা কাটতেই জয়েন্ট এন্ট্রান্সের ফলপ্রকাশ হলো। পরীক্ষার ১১৭ দিনের মাথায় প্রকাশিত হলো মেধাতালিকা। এদিন ফলপ্রকাশ হতেই জয়েন্ট উত্তীর্ণদের সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।আইনি জটিলতায় ফলপ্রকাশে কিছুটা দেরি হয়েছে সেকথা উল্লেখ করেছেন তিনি। জয়েন্ট উত্তীর্ণদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি যারা একটু পিছিয়ে পড়েছে তাদের উদ্দেশ্যেও সহানুভূতি জানিয়েছেন তিনি। সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে জয়েন্ট উত্তীর্ণরা বাংলার মুখ উজ্জ্বল করবে বলেই আশা মুখ্যমন্ত্রীর।
রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকল ছাত্রছাত্রীকে জানাই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
তোমাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও জানাই আমার অভিনন্দন।
যারা কোনো কারণে ভালো ফল করতে পারোনি, তাদের মন খারাপ না করে ভবিষ্যতে যাতে ভালো হয় তার প্রস্তুতি নিতে বলব।
আইনি জটিলতায়…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) August 22, 2025
শুক্রবার জয়েন্টের ফল প্রকাশ হতেই দেখা যায় প্রথম হয়েছেন পার্ক সার্কাসের ডন বসকোর অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী।
দ্বিতীয় হয়েছেন সাম্যজ্যোতি বিশ্বাস (কল্যাণী মডেল হাইস্কুল) , তৃতীয় দিশান্ত বসু (দিল্লি পাবলিক স্কুল, রুবি পার্ক), চতুর্থ হয়েছেন অরিত্র রায় (দিল্লি পাবলিক স্কুল, রুবি পার্ক) , পঞ্চম: তৃষাণজিৎ দোলুই (পূর্ব ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, দুর্গাপুর), ষষ্ঠ সাগ্নিক পাত্র (মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল) এর ছাত্র। অন্যদিকে সপ্তম হয়েছেন সম্বিত মুখোপাধ্যায় (বর্ধমান মডেল স্কুল), অষ্টম স্থানে রয়েছে অর্চিষ্মান নন্দী (ডিএভি মডেল স্কুল, খড়্গপুর), নবম প্রতীক ধানুকা (দিল্লি পাবলিক স্কুল, রাজারহাট) এবং দশম স্থানে রয়েছে অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় (বর্ধমান মিউনিসিপাল হাইস্কুল)।
প্রসঙ্গত , গত ৭ ই অগস্ট জয়েন্ট এন্ট্রাসের ফল প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু ওবিসি মামলার জটের কারণে ফলপ্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ২০১০ সালের পর রাজ্যের সব ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। ফলে ভর্তি প্রক্রিয়াতেও জটিলতা দেখা যায়। ২০২৪ সালের জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় ওবিসি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে নতুন প্যানেল তৈরি করতে বলেছিল কলকাতা হাই কোর্ট। ২০১০ সালের আগে ৬৬টি ওবিসি সম্প্রদায়ের তালিকার ভিত্তিতে নতুন করে মেধাতালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। যাদের ২০১০ সালের পরে ওবিসি সংশাপত্র হয়েছে, তারা কাউন্সেলিংয়ে সুযোগ পাবেন না ,সেই কথাও জানানো হয়। ফলে জটিলতা দেখা দেয়। কলকাতা হাই কোর্টের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইয়ের বেঞ্চে জয়েন্টের বিষয়েও আবেদন করা হয়।
এদিকে, কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দ্রের এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। জটিলতা না কাটলে জয়েন্টের কোনও ফলপ্রকাশ করা যাবে না। সেই নির্দেশ দেওয়া হয় হাইকোর্টের তরফে। ফলে দুশ্চিন্তায় পড়ে রাজ্যের মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পরীক্ষা দেওয়া লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া। এই পরিস্থিতিতেই সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। সেখানেই সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে সাময়িক ভাবে কলকাতা হাই কোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশের উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয়। তারপরই জানা যায় আজই জয়েন্টের ফল প্রকাশ করা হবে আড়াইটের সময়। তবে দেখা যায় তড়িঘড়ি নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৩০ মিনিট আগেই জয়েন্ট এন্ট্রান্সের ফলাফল প্রকাশিত হয় এদিন।

