Saturday, April 18, 2026
- Advertisement -

কলকাতায় সরলেন ইন্দিরা, ১২ জেলায় নতুন এসপি: উত্তাল নবান্ন

- Advertisement -

কলকাতায় সরলেন ইন্দিরা, ১২ জেলায় নতুন এসপি: উত্তাল নবান্ন।

অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: ভোটের ঘণ্টা বাজতেই বাংলায় পুলিশি প্রশাসনে ঝোড়ো ব্যাটিং শুরু করল নির্বাচন কমিশন। এক ধাক্কায় ১৯ জন আইপিএস (IPS) অফিসারকে সরিয়ে কার্যত নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল দিল্লির নির্ভাচন সদন। সোমবার রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে সরানোর পর, মঙ্গলবার কোপ পড়ল আরও ২ জন এডিজি, ৪ জন সিপি এবং ১২ জন এসপির ওপর।

সবচেয়ে নজরকাড়া বদলটি ঘটেছে কলকাতায়— আরজি কর কাণ্ড ও রাজভবনের তদন্তের মোড় ঘোরানো আধিকারিক ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে ডিসি (সেন্ট্রাল) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিরপেক্ষ ভোট করানোর লক্ষ্যে কমিশনের এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ নবান্নের অন্দরে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন রাজ্যে পুলিশ প্রশাসনে এক ব্যাপক রদবদল ঘটিয়েছে ।নির্বাচন কমিশনের মঙ্গলবারের নির্দেশিকায় রাজ্য পুলিশের খোলনলচে বদলে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬ এক নির্দেশে কমিশন মোট ১৯ জন আইপিএস (IPS) অফিসারকে বদলি করেছে।আরজি কর কাণ্ড এবং রাজভবনের শ্লীলতাহানি অভিযোগের তদন্তকারী দল -এর অন্যতম প্রধান মুখ ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় আসছেন ইয়েলওয়াড় শ্রীকান্ত জগন্নাথরাও।দক্ষিণবঙ্গের এডিজি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রাজেশ কুমার সিং এবং উত্তরবঙ্গের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কে জয়রামনকে।হাওড়া, ব্যারাকপুর, আসানসোল-দুর্গাপুর এবং চন্দননগর—এই চার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে নতুন পুলিশ কমিশনার নিয়োগ করা হয়েছে। বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, কোচবিহার এবং ডায়মন্ড হারবারসহ মোট ১২টি স্পর্শকাতর জেলায় নতুন পুলিশ সুপার পাঠানো হয়েছে।

যাঁদের সরানো হয়েছে, তাঁদের কাউকেই নির্বাচনের কোনো সরাসরি কাজে যুক্ত রাখা যাবে না। সোমবার ডিজি এবং কলকাতার সিপিকে সরানোর পর মঙ্গলবারের এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিল যে, ২০২৬-এর নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কমিশন কোনো আপস করতে রাজি নয়।

ডিজি-সিপি থেকে শুরু করে এসপি—কমিশনের এই বদলির ঝড়ে ওলটপালট বাংলার পুলিশি মানচিত্র। নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে দিল্লির এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ আদতে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার। তবে ভোটের বাদ্যি বাজার আগেই কমিশনের এই কড়া মেজাজ নবান্নের অন্দরে যে বাড়তি চাপ তৈরি করল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments