কুম্ভমেলা – ইতিহাসের পথ ধরে
স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, ইউরোপীয়দের মুক্তি ‘গণতন্ত্রে’, আর ভারতীয়দের মুক্তি ‘ধর্মতন্ত্রে’। স্পষ্ট করেই বলা যায় সেই বৈদিক যুগ থেকেই ভারতের মাটি ধৰ্মীয় ভাবনায় লালিত। তাই ভারতীয় ধর্মবোধের অনুষঙ্গ হিসাবে স্বাভাবিকভাবেই আসে ‘পাপ-পুণ্য’ শব্দ। পুণ্যলোভাতুর ভারতীয়রা যুগ যুগ ধরে মহাকুম্ভতে শাহী স্নান করেন। কিন্তু কবে, কখন বা কিভাবে প্রয়াগে এই পুণ্য স্নান শুরু হলো, তা নিয়েও বিতর্ক আছে। ইতিহাস কিছুটা নীরবও বটে। তবে এই মেলা যে কয়েক শো বছরের পুরনো তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
অনেকের মতে অষ্টম শতাব্দীতে হিন্দু দার্শনিক ও সাধু আদি শঙ্করাচার্য ভারত জুড়ে মঠ প্রতিষ্ঠা ও ধর্মীয় সমাবেশ করেন। মনে করা হয় সেই সময় তাঁর হাত ধরেই শুরু হয়েছিল কুম্ভ মেলার। যদিও এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে ১৯ শতকের আগে ভারতে এত বড় তীর্থযাত্রার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় না, এমনকি সাহিত্যেও উল্লেখ নেই। আবার অনেক প্রাচীন পান্ডুলিপি ও শিলালিপিতে ৬ বা ১২ বছর অন্তর বার্ষিক মাঘ মেলার উল্লেখ পাওয়া যায়।
স্বাধীনতার আগে এই কুম্ভ মেলার আয়োজন করত খোদ ব্রিটিশ সরকার। সেই সময়ে কেবল কুম্ভ মেলার খুঁটিনাটি, সুরক্ষার দিক সব খতিয়ে দেখতে ইংল্যান্ড থেকে জেনারেল পদমর্যাদার অফিসার আসতেন শুধুমাত্র কুম্ভ মেলার আয়োজনের তদারকি করতে। ক্রমে দেশ স্বাধীন হয়, ১৯৫৪ সালে প্রয়াগরাজেও প্রথম আয়োজন হয়েছিল স্বাধীন ভারতের প্রথম কুম্ভ মেলার। কুম্ভে গিয়ে গঙ্গাস্নান করেছিলেন খোদ জহরলাল নেহেরু, উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ডাঃ রাজেন্দ্র প্রসাদও।
পৌরাণিক কিংবদন্তি অনুযায়ী বলা যায়, অমৃত ভান্ডের অধিকার নিয়ে দেব ও দানবের লড়াইয়ের সময় ভারতের চার জায়গায় চার ফোঁটা অমৃত পড়ে যায়। সেই চার জায়গা হলো – প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার , উজ্জয়িনী ও নাসিক। মনুষ্য লোকের এই ৪ কুম্ভেই গ্রহের অবস্থান দেখে আয়োজন করা হয় কুম্ভ মেলার।
কুম্ভ প্রধানত ৪ প্রকার – পূর্ণকুম্ভ,অর্ধকুম্ভ, কুম্ভ ও মহাকুম্ভ। এবারে মূল আকর্ষণ মহাকুম্ভের কথায়। মহাকুম্ভ অনুষ্ঠীত হয় ১৪৪ বছরে একবার। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, মেষ রাশির চক্রে বৃহস্পতি, সূর্য ও চন্দ্র মকর রাশিতে প্রবেশ করলে মহাকুম্ভ মেলার আয়োজন করা হয়।

