পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী – ২ ব্লকের অন্তর্গত মোয়াইল গ্রাম বাস্তবিক কুল চাষের জন্য বিখ্যাত। এখানকার কুল – স্থানীয় ভাষায় যেটি আপেল কুল নামে পরিচিত – এলাকার কৃষির অন্যতম স্তম্ভ। মোয়াইল গ্রামের মলয় পাঁজা (৩৪) একজন প্রগতিশীল কৃষক। পরিবারের সদস্য সংখ্যা তিন জন। মলয় বর্তমানে দুই একর জমিতে দু ফসলি ধান, ফুলকপি, পেঁপে, পটল ও আপেল কুল ফলান। বিগত দেড় দশক মলয় বাণিজ্যিকভাবে চাষের সাথে যুক্ত। সাবেকি পদ্ধতিতে চাষবাস করলেও ২০২০ সালে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের সাথে যুক্ত হওয়ার পর আধুনিক কৃষির অনেক খুঁটিনাটি রপ্ত করেছেন মলয়।
প্রায় প্রতি বছর প্রায় এক বিঘা (০.৩৩ একর) জমিতে মলয় কুল চাষ করেন। মূলতঃ বাজার চলতি সার প্রয়োগ করেই উৎপাদন করেন। কিন্তু এ বছর হঠাৎই প্রায় এক বিঘা জমিতে বৃষ্টির দরুন জল জমে কুল গাছ রক্তিম বর্ণ ধারণ করে এবং গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এমতাবস্থায় রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের নিঃশুল্ক হেল্পলাইন ১৮০০ ৪১৯ ৮৮০০ নম্বরে ফোন করে কৃষি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন। সমস্যার প্রকৃতি অনুধাবন করে কৃষি বিশেষজ্ঞ প্রয়োজনীয় ওষুধ সুপারিশ করেন। পাশাপাশি গাছের বৃদ্ধি স্বাভাবিকতা বজায় রাখার জন্য সাধারণ ও জৈব সার এর মিশ্রণ প্রয়োগ করতে বলেন। ফলস্বরূপ ১৫ দিনের মধ্যে মলয়ের কুল গাছ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের এই পরিষেবায় যেখানে বিগত বছরে কুলের উৎপাদন ছিল বিঘা প্রতি ২২ কুইন্টাল, সেখানে এ বছর উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে প্রায় ২৭ কুইন্টাল। পাশাপাশি উৎপাদন খরচ বিঘা প্রতি প্রায় ২০০০০/- টাকা থেকে কমে হয়েছে ১৮০০০/- টাকা। কুলের গুণমান বৃদ্ধির ফলে দাম পেয়েছেন ২৩০০/- থেকে ২৪০০/- প্রতি কুইন্টাল। অর্থাৎ, এ বছর খরচ বাদ দিয়ে নীট লাভ প্রায় ৪৫,০০০/- টাকা। ফল বিক্রি করেছেন জামালপুর বাজারে। কুল ছাড়াও পেঁপে ও ফুলকপি চাষেও ধসা রোগের হাত থেকে পরিত্রান পেয়েছেন মলয়। সৌজন্যে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন !! অনুপ্রাণিত মলয় এর কথায় “” কৃষি আজ আমাদের কাছে শুধু লাভজনকই নয়, বরং আমরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী, কারণ হাতের মুঠোয় যে কোনো সমস্যায় আমরা প্রতিকার পাই রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন থেকে”” । এভাবেই গ্রাম বাংলার কৃষক ভাইদের কাছে কৃষিবন্ধু হয় পাশে রয়েছে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন।

