গণপতি বাপ্পার ভোগে কী খাওয়া নিষেধ জানুন গণেশ পূজোর নিয়ম
নিউজ ডেস্ক ব্যুরো :- গণেশ চতুর্থী মানেই ভক্তির আবেশে গজাননের আরাধনা, মণ্ডপে মণ্ডপে মোদকের সুগন্ধ আর আরতির ধ্বনি। তবে শাস্ত্র মতে, এই পুজোর দিনে কিছু নির্দিষ্ট খাবার খাওয়া একেবারেই নিষিদ্ধ। বিশ্বাস করা হয়, এই নিয়ম না মানলে গণপতি বাপ্পা রুষ্ট হন এবং পূজার ফল মিললেও তা পূর্ণ হয় না। তাই আসুন জেনে নেওয়া যাক, গণেশ পূজোর সময় কোন খাবারগুলি এড়িয়ে চলা উচিত এবং তার পিছনের কারণ।
প্রথমেই উল্লেখযোগ্য তুলসী পাতা। শাস্ত্র মতে, তুলসী দেবী গণেশের কাছে অভিশপ্ত হওয়ায় গণেশের পূজায় তুলসী দেওয়া যায় না এবং তুলসী পাতা খাওয়াও এদিন নিষিদ্ধ। বিশ্বাস করা হয়, তুলসী ব্যবহারে পূজার পবিত্রতা নষ্ট হয়।
দ্বিতীয়ত, চাঁদ দেখা ও চাঁদ সম্পর্কিত ফল বা খাদ্যএড়াতে বলা হয়। গণেশ চতুর্থীর সঙ্গে যুক্ত একটি পুরাণকথা রয়েছে যেখানে বলা হয়, এই দিনে চাঁদ দেখলে বা চাঁদ সম্পর্কিত খাবার গ্রহণ করলে মিথ্যা অপবাদে পড়তে হয়। তাই এই দিনে দই বা চাঁদ্রসম যুক্ত মিষ্টান্ন পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পেঁয়াজ-রসুন ও আমিষ খাবারও নিষিদ্ধ। গণপতি হলেন পবিত্রতার প্রতীক, তাই সেদিন নিরামিষ ও সত্ত্বিক আহারই গ্রহণ করতে হয়। আমিষ, ডিম, মাছ-মাংস এই দিনে খাওয়া একেবারেই বারণ।
এছাড়া, মদ্যপান বা যে কোনও নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করাও এই দিনে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এটি পাপফল ডেকে আনে বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে।
অন্যদিকে, এদিন বিশেষভাবে মোদক, নারকেল, কলা, দুধ, গুড় দিয়ে তৈরি প্রসাদ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এগুলি গণেশের প্রিয় এবং পূজার ফল অনেকগুণ বাড়িয়ে তোলে।
তাই এ বছরের গণেশ পূজোয় গজাননের আশীর্বাদ পেতে চাইলে উপরের নিয়মগুলি মেনে চলুন। পবিত্রতার সঙ্গে গণেশ ঠাকুরের আরাধনা করলে ভক্তের জীবনের সব বাধা দূর হয়, এমনটাই বিশ্বাস।

