গণেশ চতুর্থীর পবিত্র তিথিতে গণপতি বাপ্পা মোরিয়া গর্জনে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে তুলছে ভক্তি আর উৎসবের উচ্ছ্বাস!
নিউজ ডেস্ক :- হিন্দু সমাজে ভক্তির অন্যতম বড় উৎসব গণেশ চতুর্থী এবার পালিত হবে ২৬ আগস্ট থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত। ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে সিদ্ধিদাতা, বিঘ্নহর্তা, সমৃদ্ধির প্রতীক শ্রীগণেশের জন্মদিন উপলক্ষ্যে পালিত হয় এই উৎসব। ভক্তরা বিশ্বাস করেন এই দিন পূজা করলে জীবনের সমস্ত বাধা দূর হয়ে সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি লাভ করা যায়।
সবচেয়ে জাঁকজমকের সঙ্গে এই উৎসব পালিত হয় মহারাষ্ট্রে। মুম্বই ও পুনেতে বিশাল মণ্ডপ, চোখধাঁধানো প্রতিমা, এবং হাজার হাজার ভক্তের অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় এক অনন্য আবহ। তবে শুধু মহারাষ্ট্রেই নয়, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, গোয়া সহ সারা দেশেই এখন সমান উৎসাহে পালিত হচ্ছে গণেশ চতুর্থী। এমনকি আমেরিকা সহ বিদেশেও ভারতীয় সম্প্রদায় ভক্তিভরে এই দিন পালন করেন।
২০২৫ সালের গণেশ চতুর্থীর তিথি শুরু হবে ২৬ আগস্ট দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটে এবং শেষ হবে ২৭ আগস্ট দুপুর ৩টা ৪৪ মিনিটে। শুভ পুজার সময় নির্ধারিত হয়েছে ২৭ আগস্ট সকাল ১১টা ১২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত। ধর্মশাস্ত্র মতে, এই সময়েই শ্রীগণেশের ‘প্রাণপ্রতিষ্ঠা’ ও পূজা করা সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হয়। তবে এই সময়ে আকাশে চাঁদ দেখা একেবারেই উচিত নয়, কারণ পুরাণ অনুযায়ী চতুর্থীর দিনে চাঁদ দেখা হলে অকারণে মিথ্যা অপবাদ আসতে পারে।
ভক্তরা এই দিনে গণপতির পায়ে নিবেদন করেন মোদক, লাড্ডু, লাল ফুল ও দূর্বা (তূর্ফা)। মোদক বিশেষভাবে প্রিয় গণেশের কাছে, তাই এই দিনে ভক্তরা ঘরে ঘরে মোদক বানিয়ে নিবেদন করেন। পূজা চলাকালীন ‘ওঁ গণ গণপতয়ে নমঃ’ মন্ত্র জপ করলেই বিঘ্নহর্তা গণেশ বিশেষভাবে প্রসন্ন হন বলেই বিশ্বাস।
দশদিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ, অনন্ত চতুর্দশীর দিনে গণেশ বিসর্জনের মাধ্যমে। ভক্তরা তখন “গণপতি বাপ্পা মোরিয়া, পুনরাগমন হবে আবার” ধ্বনি তুলে আগামী বছরের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।

