ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলে আবার চললো গুলি
এ কথা এখন হয়তো আর অস্বীকার করা যায় না যে বাংলা এখন দাঁড়িয়ে আছে বেআইনি বোমা বন্দুকের উপরে। ক্রমাগত রক্ত ঝরছে তৃণমূল নেতা কর্মীদের। আর তা কিন্তু বিরোধী দলের কারণে নয়, শুধুই গোষ্ঠী কোন্দলে। মালদহ, কালিয়াচকের পর এবার ডায়মন্ড হারবার। খোদ তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্রেই তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি। শনিবার সকালে ডায়মন্ড হারবারের নোদাখালি থানার ডোঙারিয়া মনসাতলা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। গুলিবিদ্ধ তৃণমূল নেতার নাম কৃষ্ণপদ মণ্ডল। কলকাতার সিএমআরআই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি। ঘটনায় প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ। রাস্তার মাঝেই প্রকাশ্য দিবালোকে শুটআউটের ঘটনা ঘটে এদিন। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আচমকাই ৩ জন দুষ্কৃতী এসে গুলি চালায় বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন গুলিবিদ্ধ ওই তৃণমূল নেতা। গুরুতর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কলকাতার হাসপাতালে আনা হয়। প্রশ্ন উঠেছে, এতো বন্দুক পিস্তল সর্বত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ পুলিশ কেন ঘুমন্ত?
আমরা আগেও দেখেছি, মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ না দিলে সেভাবে কখনো পুলিশ সক্রিয় হয় না। আর সমাজ বিরোধীরা তা জেনে গেছে বলেই, তারা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জানা গিয়েছে, গুলিবিদ্ধ কৃষ্ণপদ মণ্ডল রায়পুর এলাকার যুব তৃণমূলের নেতা। পিঠের কাছে গুলি লেগেছে তাঁর। ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূল নেতাকে গুলি করার ঘটনায় নেপথ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ আক্রান্তের দাদার। দলের লোকেরাই গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। স্থানীয়দের তরফে তিন দুষ্কৃতীর নাম পেয়েছে পুলিশ। সেই মতো তাঁদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। এদিন গুলিবিদ্ধ তৃণমূল নেতার দাদা বলেন, “রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলাম। এসে দেখলাম ভাইকে গুলি চালিয়েছে। এর আগেও গুলি চালিয়েছিল। পার্টির ছেলেরাই গুলি চালিয়েছিল। এবারেও সেই একই ব্যাপার। দলের লোকই বলল নিজেদের মধ্যে হয়ে গেছে। বারবার একই ঘটনা ঘটছে। ওকে দল থেকে সরিয়ে দিতে পারলে হয়ত তাদের ভালো হবে, তাই বারবার গুলি চালানোর ঘটনা ঘটছে।”

