তৃণমূলের প্রচার মঞ্চ থেকে কি ধীরে ধীরে সরানো হচ্ছে অভিষেককে?
তৃণমূলের প্রবীণ বনাম নবীন দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। শুভেন্দুকে সরিয়ে যুব তৃণমূলে অভিষেককে আনার পরেই ‘মদার তৃণমূল’ ও ‘যুব তৃণমূল’ শব্দদ্বয়ের উদ্ভব। তারপর থেকে মাঝে মাঝেই সেই কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে।
এক সময় মমতাকে বলতে হয় ‘আমি দলের শেষ কথা বলব।’ এবার দেখা গেলো সেই প্রবনতার ছবি। আজ, বৃহস্পতিবার তৃণমূলের কনভেনশন মঞ্চে নেই অভিষেক, শুধুই মমতার ছবি। ইতিমধ্যেই নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম সেজে উঠেছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে মূল মঞ্চে সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থাকলেও নেই সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। স্বাভাবিক কারণেই এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হঠাৎ কেন এমন দৃশ্য?
এটা কিন্তু গত বছর দুই ধরেই বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে। দলের রাশ মমতা সম্পূর্ণ নিজের হাতেই রাখতে চেয়েছেন। ২০২৩ সালের ইন্ডোর সমাবেশে ও মঞ্চের ব্যানারে ছিল শুধুই মমতার মুখ।
২০২৪ সালের একুশে জুলাই মঞ্চেও শুধু সুপ্রিমোরই মুখই ছিল। এর মাঝে আবার ‘ক্যালেন্ডার’ বিতর্ক। বছরের শুরুতে দেখা যায়, ছবির মাপ নিয়ে শাসকদলের মধ্যে চাপানউতোর। বছরের শুরুতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর থেকে একটি ক্যালেন্ডার পাঠানো হয়েছিল দলের জেলা সভাপতিদের। যাতে লেখা ছিল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্তৃক প্রচারিত। সেই ক্যালেন্ডারে দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও ছবি রয়েছে। কিন্তু মমতার তুলনায় অভিষেকের ছবি অনেক বড়ো।
তৃণমূলের রাজ্য কমিটি মুহূর্তে সেই ক্যালেন্ডার বাতিল করে নতুন ক্যালেন্ডার বানায়। আর এই সবের পর ২০২৫ সালের প্রথম তৃণমূলের এত বড় সভা হচ্ছে। আর সেই সভার মঞ্চে শুধুই মমতা।

