দীপাবলির এই সময় যখন সমগ্র রাজ্য থেকে দেশজুড়ে আলো, আনন্দ আর শক্তির আরাধনায় মেতে উঠেছে সবাই, ঠিক তখনই এক মায়ের জীবন ডুবে আছে অন্ধকারে। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত এক নম্বর ব্লকের ছোটজাগুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বামনগাছি কুলবেরিয়া এলাকার বাসিন্দা কবিতা বারিকের চোখের জলে ভাসছে দীপাবলির আলো।
তিন সদস্যের ছোট্ট পরিবার — ছেলে, বৌমা আর তিনি নিজে। সংসার চলে ছেলের সামান্য আয় আর কবিতা দেবীর দুই বাড়িতে পরিচারিকার কাজের উপর নির্ভর করে। বহু কষ্টে দিন কাটলেও কখনও মনোবল হারাননি এই মা। কিন্তু কয়েক মাস ধরে সেই কর্মঠ ছেলেটি গুরুতর অসুস্থ। স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা করেও কোনো ফল মেলেনি, তাই ছেলেকে জেলার বাইরে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
চিকিৎসকদের মতে, সম্পূর্ণ সুস্থ হতে গেলে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার প্রয়োজন। কিন্তু দরিদ্র পরিবারে সেই টাকা জোগাড় করা একেবারেই অসম্ভব। তাই নিরুপায় কবিতা দেবী এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সাহায্যের আশায়। এক হাতে ভিক্ষার থালা, আর অন্য হাতে ছেলের চিকিৎসার রিপোর্ট—এই দৃশ্যেই যেন দীপাবলির সমস্ত আলো ম্লান হয়ে গেছে।

স্থানীয় মানুষজনও পাশে দাঁড়িয়েছেন এই মায়ের দুর্দিনে। কেউ অল্প কেউ বেশি—যার যতটা সামর্থ্য, সেই অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন তাঁরা। প্রতিবেশীরাও জানিয়েছেন, কবিতা দেবী কখনও কারও কাছে হাত পাতেননি, কিন্তু ছেলের জীবনের প্রশ্নে আজ তিনি সমাজের সামনে মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছেন।

সোমবার বিকেল চারটে নাগাদ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কবিতা বারিক কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার ছেলেটাকে বাঁচাতে চাই, ও যদি ভালো হয়ে ওঠে, তবে এই পৃথিবীর আলো আবার দেখতে পাব।” তাঁর কণ্ঠের সেই অসহায় আবেদন যেন গোটা সমাজকে মনে করিয়ে দেয় — দীপাবলির আসল আলো শুধু প্রদীপে নয়, মানুষের সহমর্মিতায় জ্বলে।

