স্বর্ণালী হালদার, কলকাতা:— নতুন বছরের শুরুতেই দুঃসংবাদ—রান্নাঘরের আগুনে বাড়ল খরচ, এলপিজি গ্যাসের দাম বেড়ে চোখে জল সাধারণ মানুষের
নতুন বছর মানেই নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন। কিন্তু ২০২৬ সালের প্রথম দিনেই সাধারণ মানুষের মুখে হাসির বদলে ফুটে উঠল দুশ্চিন্তার ছাপ। বছরের শুরুতেই বড় ধাক্কা দিল এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি। ১ জানুয়ারি থেকে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে বেড়েছে ১১১ টাকা। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়ল।
রান্নাঘরের অপরিহার্য এই জ্বালানির দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন গৃহবধূরা। আগে থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ঊর্ধ্বমুখী—চাল, ডাল, তেল, সবজি—সব কিছুর খরচ বেড়েছে। তার উপর গ্যাসের দাম বৃদ্ধি যেন ‘আগুনে ঘি’ ঢালার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অনেক পরিবারেই মাসের বাজেট নতুন করে হিসেব করতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ওঠানামা, পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি সংক্রান্ত নীতির পরিবর্তনের প্রভাবেই এই মূল্যবৃদ্ধি। তবে সাধারণ মানুষের কাছে এসব ব্যাখ্যার চেয়েও বড় প্রশ্ন—সংসার চলবে কীভাবে? যাঁরা ভর্তুকিযুক্ত গ্যাস পান, তাঁদের ক্ষেত্রেও দাম বৃদ্ধির প্রভাব কম নয়।
গ্রামাঞ্চলে এখনও অনেক পরিবার কাঠ বা কয়লার চুলায় রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন। শহরাঞ্চলেও বিকল্প জ্বালানির কথা ভাবছেন অনেকে। কিন্তু পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ হওয়ায় এলপিজির উপর নির্ভরতা কমানো সহজ নয়। ফলে এই দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন জীবনে।
নতুন বছরের শুরুতেই এমন খবরে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ সাধারণ মানুষ। সকলেরই আশা, আগামী দিনে সরকার মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেবে এবং সাধারণ মানুষের উপর থেকে এই আর্থিক চাপ কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

