Saturday, April 18, 2026
- Advertisement -

পুজোতে সরকারি অনুদানের বিরোধিতায় যুক্তিবাদী সমিতি

- Advertisement -

 

পুজোতে সরকারি অনুদানের বিরোধিতায় যুক্তিবাদী সমিতি

গোপাল বিশ্বাস -ঃ-নদীয়া-ঃ  রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতা নীতি বজায় রক্ষার্থে, সমস্ত ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান তথা পুজো কমিটিগুলোকে রাজ্য সরকারের আর্থিক অনুদান বন্ধের দাবিতে আজ নবদ্বীপে বিষ্ণুপ্রিয়া হল্ট স্টেশন সংলগ্ন জনবহুল এলাকায় ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি’র নবদ্বীপ শাখার পক্ষ থেকে এক পথসভার আয়োজন করা হয়।
আপনারা জানেন, গত ২২ অগাস্ট পুজো কমিটিগুলিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুদান ঘোষণার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টে তিনটি জনস্বার্থ মামলা হয়। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সরকারি অনুদানের বিরুদ্ধে সমাজের বিভিন্ন মহল থেকেও আওয়াজ তোলা হয়। বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী আন্দোলনের কর্মী দীপক চক্রবর্তীর কন্ঠে মানবতাবাদী গানের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদ সভা শুরু হয়। দীপক বাবু তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন বর্তমান রাজ্য তথা দেশের শাসকরা কিভাবে বিজ্ঞানমনস্কতার প্রচারে বাঁধা দিচ্ছে এবং কুসংস্কার ও অপবিজ্ঞানকে প্রমোট করছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সরকারি মদতের বিরুদ্ধে পোস্টার হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানায় যুক্তিবাদী সমিতির কর্মীরা। যুক্তিবাদী সমিতির তরফে পুজো কমিটিগুলোকে রাজ্য সরকারি অনুদান ও কর ছাড় প্রদানের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীকে পত্র দেওয়া হয়। বিজ্ঞানমনস্কতার প্রসার করতে এবং ভ্রান্ত কুসংস্কারের প্রচার ও প্রসার বন্ধ করতে, মন্ত্রীসহ সমস্ত সরকারি আধিকারিকদের প্রকাশ্যে ধর্মাচারন নিষিদ্ধ করার দাবিতে, সরকারি দপ্তরে ধর্মালয় রাখা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধের দাবিতে, প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারের দাবিতে সমিতির পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়।
ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি’র নবদ্বীপ শাখার সম্পাদক প্রতাপ চন্দ্র দাস বলেন, ” দুর্গাপুজো কমিটিগুলোকে আর্থিক সাহায্য দিয়ে একদিকে কুসংস্কার ও অপবিজ্ঞানকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে আবার অন্য দিকে এক বিশেষ ধর্মকে সমর্থন জানিয়ে তার প্রতি পক্ষপাতও দেখানো হচ্ছে। এটা সংবিধান-নির্দেশিত ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শের বিরোধী তো বটেই এবং তার সাথে সাথে সংবিধানের ৫১এ(এইচ) ধারা অনুযায়ী বৈজ্ঞানিক মেজাজ ও অনুসন্ধিৎসা গড়ে তোলবার ঘোষিত মৌলিক কর্তব্যেরও পরিপন্থী। পুজো কতটা আড়ম্বরপূর্ণ হবে না হবে তা ঠিক করবে সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটি। এখানে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্ররোচনা ও প্রশ্রয় সম্পূর্ণ অবাঞ্চিত। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাজ বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে রাজ্য পরিচালনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনামূল্যে সকলের জন্য আধুনিক ও উচ্চমানের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণ এবং প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর উচিৎ সমস্ত ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এবং দুর্গা পুজো কমিটিগুলোকে অনুদান ও অনান্য ছাড় দেওয়া বন্ধ করে রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতা নীতি বজায় রেখে সংবিধানকে মান্যতা দেওয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments