প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম লিটারে ২.৩৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ল।
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে ভারতের জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার দাম কমে যাওয়ার প্রভাবে তেল বিপণন সংস্থাগুলো প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি মূলত উচ্চমানের জ্বালানি ব্যবহারকারী এবং শিল্পক্ষেত্রের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের জ্বালানি বাজারে ২০ মার্চ ২০২৬ থেকে প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় তেল বিপণন সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ২.০৯ টাকা থেকে ২.৩৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।এরই মধ্যে স্বস্তির খবর হলো, সাধারণ পেট্রোল এবং ডিজেলের দামে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি, অর্থাৎ এগুলোর দাম অপরিবর্তিত আছে।
শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত ডিজেলের দামও একধাক্কায় লিটারে প্রায় ২২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বিপিসিএল -এর স্পিড , এইচপিসিএল -এর পাওয়ার এবং আইওসিএল এর এক্সপি৯৫ এর মতো হাই-অকটেন জ্বালানির দাম বেড়েছে।
দিল্লিতে এর দাম ৮৭.৬৭ টাকা থেকে বেড়ে ১০৯.৫৯ টাকা হয়েছে।
এটি মূলত বড় আবাসন, শপিং মল, টেলিকম টাওয়ার এবং রেলওয়ের মতো বড় গ্রাহকদের প্রভাবিত করবে।দিল্লিতে ৯৫-অকটেন প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম ৯৯.৮৯ টাকা থেকে বেড়ে ১০১.৮৯ টাকা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
হরমুজ প্রণালী যা বিশ্বের তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ, সেখানে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
এই জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মূলত একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তটি সাধারণ মধ্যবিত্তের পকেটে সরাসরি বড় কোনো আঘাত না হানলেও, বাজারের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।অর্থনীতিতে একটি প্রচ্ছন্ন চাপ তৈরি করবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণেই তেল বিপণন সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। সরাসরি সাধারণ গ্রাহকদের পকেটে টান না পড়লেও, শিল্প উৎপাদন ও পণ্য পরিবহণ খরচ বাড়লে ভবিষ্যতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার একটি আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে, যা সাধারণ মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রায় পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে।

