স্বর্ণালী হালদার, কলকাতা :— বসন্তের হাওয়া যতই মিষ্টি হোক, শরীরের খেয়াল রাখা আরও জরুরি—সচেতনতাই সুস্থ থাকার প্রথম শর্ত
শীতের কুয়াশা আর ঠান্ডা ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছে, প্রকৃতিতে ধরা দিচ্ছে বসন্তের রঙিন ছোঁয়া। তবে ঋতু পরিবর্তনের এই সময়টাতেই শরীর সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। তাই শীত পেরিয়ে বসন্তের উষ্ণ বাতাসে কিছু বিষয় বিশেষ ভাবে নজরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
প্রথমত, আবহাওয়ার ওঠানামার কারণে ঠান্ডা-গরমের সমস্যা বাড়ে। সকালে হালকা ঠান্ডা থাকলেও দুপুরে তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। ফলে অনেকেই মোটা জামা হঠাৎ বাদ দিয়ে দেন, আর সেখান থেকেই সর্দি-কাশি, জ্বর বা গলা ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তাই স্তরভিত্তিক পোশাক পরা বুদ্ধিমানের কাজ—সকালে হালকা গরম জামা, দুপুরে আরামদায়ক সুতির পোশাক।
দ্বিতীয়ত, বসন্ত মানেই অ্যালার্জির মরসুম। বাতাসে ফুলের রেণু, ধুলো ও দূষণের পরিমাণ বাড়ে। যাদের অ্যালার্জি বা অ্যাজমার সমস্যা আছে, তাদের মাস্ক ব্যবহার করা, বাড়ি পরিষ্কার রাখা এবং বাইরে থেকে এসে মুখ-হাত ধোয়ার অভ্যাস করা জরুরি। চোখে চুলকানি বা হাঁচি বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
তৃতীয়ত, পানিশূন্যতা এড়াতে পর্যাপ্ত জল পান করা দরকার। শীতের তুলনায় তৃষ্ণা কম পেলেও শরীরে জলের প্রয়োজন কমে না। সঙ্গে মৌসুমি ফল—কমলা, পেঁপে, আপেল, শসা—খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
চতুর্থত, ত্বকের যত্নও গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় ত্বক কখনও শুষ্ক আবার কখনও তৈলাক্ত হয়ে পড়ে। তাই নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা দরকার।
সবশেষে, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব সহজেই সামলানো যায়। সচেতন থাকলেই বসন্ত শুধু রঙ আর উৎসব নয়, সুস্থতারও ঋতু হয়ে উঠবে।

