বহু অধরা উত্তরের মধ্যেই সঞ্জয়ের ফাঁসি নিয়ে তৎপর মুখ্যমন্ত্রী
সঞ্জয়ের ফাঁসি চাই – এই দাবি করেছেন অনেকেই। বিচারক এই ঘটনাকে বিরল থেকে বিরলতম বলে মনে করছেন না। তাই তিনি ফাঁসির বলদলে আমৃত্যু কারাদন্ড দিয়েছেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদ থেকেই প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী।
এখন নাগরিক মহলের প্রশ্ন, কেন মুখ্যমন্ত্রী সঞ্জয়কে ফাঁসিতে ঝোলাতে তৎপর হয়ে উঠেছেন? মুখ্যমন্ত্রী প্রথমেই বলেছেন, এই কেস রাজ্য পুলিশের হাতে থাকলে তিনি ফাঁসি করিয়ে দিতেন। যদিও প্রশাসনিক প্রধান হিসাবে বিচার বিভাগ নিয়ে এই মন্তব্য কতটা বিধিসম্মত তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আরও বড়ো কথা, নির্যাতিতার বাবা কোর্টের রায় নিয়ে কোনো মন্তব্য না করে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন মুখ্যমন্ত্রী দ্রুততার সঙ্গে ফাঁসি করিয়ে দিতে চাইছেন? এই প্রশ্ন বিরোধীদেরও।
আসল কথা হলো, নির্যাতিতার পরিবার, সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক মহল মনে করেন, এই অপরাধ সঞ্জয়ের পক্ষে একা করা সম্ভব নয়। এর সঙ্গে যুক্ত আছে আরও একাধিক মানুষ। কোনো আজ্ঞাত কারণে CBI তাদের কিছুতেই সামনে আনতে চাইছেন না? কিন্তু কেন?
কোর্টের রায় শুনে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে বলেন,”এই ঘটনা বিরলের মধ্যে বিরলতম নয় বলে আদালতের রায়ে আমি হতবাক। আমি নিশ্চিত যে এটা বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনা। দোষী সাব্যস্তর ফাঁসি হওয়া দরকার।” এর পড়ে তিনি লেখেন -“এখন আমরা হাইকোর্টে দোষী সাব্যস্তর মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানাব।” যদি এই অপরাধের সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত থাকে, তবে তাকে ধরা সহজ হবে যদি সঞ্জয় জীবিত থাকে। কিন্তু সঞ্জয়কে হত্যা করা হলে সেই সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে। তাই তো নাগরিক মহলের একটা অংশ ও নির্যাততার বাবা আদালতের এই রায়কে মেনে নিয়েছেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী সঞ্জয়কে মেরে ফেলার জন্য উঠেপরে লেগেছেন। এই নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন!!

