বহু প্রশ্নের উত্তর না থাকার মধ্যেই আজ আর জি কর কাণ্ডের রায় ঘোষণা
আর জি কর কাণ্ডের চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুন নিয়ে বহু প্রশ্নের উত্তর এখনও পাওয়া যায় নি। সেই পরিস্থিতিতেই ২৬২ দিনের মাথায় আজ অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে নিয়ে রায় ঘোষণা হতে চলেছে শিয়ালদা আদালতে। আর যাঁর হাতে আরজি কর মামলার বিধান লেখা হবে, তিনি হলেন শিয়ালদা আদালতের অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক অনির্বাণ দাস। গত ৪ নভেম্বর চার্জ গঠনের পরে ১১ নভেম্বর থেকে তাঁর এজলাসেই আরজি কর মামলার শুনানি চলেছে। ৬৬ দিনের বিচারপ্রক্রিয়ায় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের আইনজীবী, নির্যাতিতা চিকিৎসকের আইনজীবী, মূল অভিযুক্ত সঞ্জয়ের আইনজীবী, সাক্ষ্যদের বক্তব্য শুনেছেন। আর সেইসব সওয়াল, পালটা সওয়াল, প্রমাণ এবং সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আজ রায়দান করবেন বিচারক দাস। কিন্তু জুনিয়র চিকিৎসক, তিলোত্তমার মা-বাবা ও নাগরিক মহল বহু প্রশ্নের উত্তর পায় নি।
এমনিতে আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনাকে বিরল থেকে বিরলতম হিসেবে চিহ্নিত করে মূল অভিযুক্ত সঞ্জয়ের সর্বোচ্চ শাস্তিই চেয়েছেন সিবিআইয়ের আইনজীবী। আবার সঞ্জয়ের আইনজীবী সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে তাঁর মক্কেলকে ফাঁসানো হচ্ছে। তদন্তের একাধিক জায়গায় ফাঁক আছে। নির্যাতিতার পরিবারের তরফে অবশ্য দাবি করা হয়েছে যে মেয়ের ধর্ষণ এবং খুনের মামলায় সঞ্জয় দোষী। কিন্তু সঞ্জয় একা দোষী নয়। ওই ঘটনায় আরও অনেকে যুক্ত বলে দাবি করেছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। শিয়ালদা আদালতে রায়দানের আগেও তাঁরা দাবি করেছেন, তদন্ত এখনও অর্ধেক হয়েছে। মেয়ের ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় আরও যারা অপরাধী আছে, তারা বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেইসঙ্গে সঞ্জয়ের ফাঁসি চান কিনা, সেই প্রশ্নের জবাবে নির্যাতিতার মা বলেছেন, ‘আমি অপরাধীর সাজা চাই। যা সিদ্ধান্ত নেবে, আদালত নেবে।’ শাস্তি যাই হোক, আসল কথা যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও পাওয়া গেলো না, সেই প্রশ্নের উত্তর কবে পাওয়া যাবে?

