স্বর্ণালী হালদার, কলকাতা: —
বারামতী বিমান দুর্ঘটনা — শেষ মুহূর্তে ককপিটে সুমিত, সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন
মহারাষ্ট্রের বারামতীতে সাম্প্রতিক বিমান দুর্ঘটনাকে ঘিরে উঠে আসছে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই বিমানের নির্ধারিত পাইলট যানজটে আটকে পড়ায় শেষ মুহূর্তে দায়িত্ব দেওয়া হয় পাইলট সুমিতকে। অর্থাৎ, ওই দিন মূলত তাঁর বিমান ওড়ানোর কথাই ছিল না। এই হঠাৎ দায়িত্ব বদলই কি দুর্ঘটনার নেপথ্যে চাপ তৈরি করেছিল? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে তদন্তে।
তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ বলছে, অবতরণের সময় দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম ছিল। ঘন কুয়াশা ও আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার কারণে রানওয়ে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না বলেই দাবি। সেই পরিস্থিতিতে পাইলটের কোনও ভুল সিদ্ধান্ত বা হিসাবের ত্রুটি থেকে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
তবে এই তত্ত্ব মানতে নারাজ সুমিতের সহকর্মী ও বন্ধুরা। তাঁদের বক্তব্য, সুমিত অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ পাইলট ছিলেন। কঠিন আবহাওয়ায় উড়ান চালানোর প্রশিক্ষণও তাঁর ছিল। তাঁদের দাবি, কেবল পাইলটের সিদ্ধান্তকে দায়ী করলে প্রকৃত কারণ আড়াল হয়ে যেতে পারে। বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি, ন্যাভিগেশন সহায়তায় সমস্যা বা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের নির্দেশ— সব দিকই খতিয়ে দেখা উচিত বলে মত তাঁদের।
এই ঘটনায় বেসামরিক বিমান চলাচল দফতর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ব্ল্যাক বক্সের তথ্য বিশ্লেষণ, আবহাওয়া রিপোর্ট, এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডিং— সব কিছু মিলিয়েই সামনে আসবে প্রকৃত চিত্র। ততদিন পর্যন্ত সুমিতের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক চলবেই।
দুর্ঘটনা শুধু একটি উড়ান থামায়নি, প্রশ্নের ঝড় তুলেছে গোটা বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে।

