ব্রোকোলি চাষে ভালো লাভের মুখ দেখছে কৃষকরা
ব্রকোলি বা সবুজ ফুলকপির পুষ্টিগুন অশেষ। প্রথম দিকে বাজারে কিছুটা ব্রাত্য থাকলেও গত ১০/১২ বছরে এর চাহিদা বেড়েছে ব্যাপক। এই নিয়ে এক সমীক্ষা করত আমরা গিয়েছিলেম সিউড়ি বাজারে ব্রোকোলি চাষীদের কাছে। সৌজন্যে রাজনগরের ব্লকের বেশ কয়েকজন চাষি। তাঁদের চাষকারা ব্রকোলি-ই নিয়মিত সিউড়ি বাজারে আসছে বছর তিনেক ধরে। যে ভাবে ব্রকোলি চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন চাষিরা তাতে জেলার একটা বড় অংশের চাহিদা রাজনগরের চাষিরাই মেটাবেন বলে মনে করছেন কৃষি বিষেশজ্ঞরা। কেন্দ্রীয় জীবিকা মিশনের অন্তর্গত ইন্ট্রিগ্রেটেড ওয়াটার সেড ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম বা আইডাব্লুএমপি ২০১২ সালে রাজনগর ব্লকের মোট পাঁচটি পঞ্চায়েতের মধ্যে তিনটিরও বেশি পঞ্চায়েতের দায়িত্ব পায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা লোককল্যাণ পরিষদ। ওই সংস্থাই চাষিদের মানসিকতা বদল ঘটিয়েছে বলছেন স্থানীয়রাই। পুকুর সংস্কার বা নতুন করে পুকুর কাটিয়ে দেওয়া, বিন্দু বা ফোঁটা সেচের ব্যবহার, কোন মাটিতে কোন সময় কোন ফসল লাভাজনক— সেটা চাষিদের বোঝানো। বীজ থেকে পরামর্শ সবসময় পাশে সংস্থা।
রাজনগরের লাউজোড় গ্রামে বছর তিনেক ধরে ব্রকোলি চাষ করছেন মহাদেব মাজি, ষষ্ঠীপদ মাজিরা। এ বারও ১০০০ ব্রকোলি লাগিয়েছেন। ফসল ধরতে শুরু করেছে। পাতাডাঙার দাতাকর্ণ মণ্ডল, সন্তোষ মণ্ডল, সুবোধ মণ্ডল বা তাঁতিপাড়ার প্রদীপ রায়রা সাফল্যের সাথে ব্রকোলি চাষ করেছেন। সুবোধবাবু তো রাজনগর কৃষি মেলায় প্রদর্শনিতে ব্রকোলি দিয়ে প্রথম স্থান পেয়েছেন। সকলেই জানাচ্ছেন সত্যিই লাভজনক চাষ। এ বছরই ব্লকের ৪৬জন চাষি অন্তত বিশ বিঘা জমিতে ব্রকোলি লাগিয়েছেন। ফসল বিক্রি করে লাভের মুখ দেখছেন। ব্লকের মধ্যেও চাহিদা বাড়ছে। কৃষি দপ্তরে প্রয়োজনীয় ট্রেনিং নিয়ে আপনিও চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

