কথায় আছে দুইধারে দুই কলাগাছ মধ্যখানে মহারাজ!
ঠিক তেমনই প্রবাদীয় বাক্যে এবার বঙ্গ রাজনীতিতে মাঝে কার্তিক মহারাজ – দুইদিকে তৃণমূলের দুই বিধায়ক
বিজেপি সরকার আসার পরে ‘পদ্ম’ পুরস্কার নিয়ে রাজনীতির অভিযোগ আগেও উঠেছে। কিন্তু কার্তিক মহারাজকে নিয়ে যে বিতর্ক তা রাজনীতি ছাপিয়ে এক ধরনের ধর্মনীতিতে পৌঁছে গেছে। মাত্র কিছুদিন আগেই তৃণমূলের ডেবরার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর কার্তিক মহারাজকে ‘জঙ্গি’ বলেছিলেন। এবার কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকেই পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করলেন। স্বাভাবিক কারণেই তাঁর তো তীব্র গোঁসা হবেই। অন্যদিকে ভরতপুরের অপর তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ভুয়সী প্রশংসা করলেন কার্তিক মহারাজের। যদিও বিজেপি বিরোধীদের দাবি দিল্লির মসনদে ‘পদ্ম’ সরকার বসার পর থেকেই পদ্ম পুরস্কারেও রাজনীতিকরণ হচ্ছে। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী তো পরিষ্কার বলছেন, “যাঁরা আরএসএস, বিজেপির ভাবাদর্শে বিশ্বাস করে তাঁদের জন্য পুরস্কার। বাকিদের জন্য তিরস্কার।”
তবে কার্তিক মহারাজ এইসব কথায় বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে বলেন,”দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী আমার নাম উচ্চারণ করেছেন। এটা একটা বড় প্রাপ্তি।” কিন্তু ভরত পুরের বিধায়ক স্পষ্ট করেই বলেন, “উনি অনেকদিন থেকেই বেলডাঙার ভারত সেবাশ্রয় সংঘে কাজ করছেন। ভারতের সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী দিচ্ছেন। এই সিদ্ধান্তে মুর্শিদাবাদবাসী হিসাবে আমরা খুশি। উনি যাতে আরও বেশি করে মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকেন, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষের সেবা করে যান সেটাই চাইব।” সঙ্গে এক হুমায়ুন অপর হুমায়ুনকে উদ্দেশ্য করে বলে -‘জঙ্গি তো যাকে তাকে বলা যায় না। তাঁর সঙ্গে আমার কোনও কারণে মত বিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু, জঙ্গি বলা খুবই অবিবেচকের মতো কাজ হবে।’

