মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ! ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নিয়ে ময়দানে হুমায়ুন কবীর; নজরে কি ২০২৬?
নিজস্ব সংবাদদাতা,মুর্শিদাবাদ :- মুর্শিদাবাদের রাজনীতির চিরকালই অনিশ্চয়তার নাম হুমায়ুন কবীর। কখনো ঘাসফুল, কখনো পদ্ম, আবার কখনো হাত শিবির— রাজনৈতিক মানচিত্রে তাঁর অবস্থান বারংবার বদলেছে। তবে এবার আর অন্য কোনো পতাকা নয়, নিজের কাঁধেই দলের ঝান্ডা তুলে নিলেন ভরতপুরের দাপুটে বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এবং আজ মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় এক জনসভায় আত্মপ্রকাশ করলেন তাঁর নতুন রাজনৈতিক দল— ”জনতা উন্নয়ন পার্টি”। মুর্শিদাবাদ থেকে যাত্রা শুরু করে এই দল রাজ্যের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আর জনভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে এবার নিজস্ব শক্তিতে লড়াইয়ের বার্তা দিলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল মুর্শিদাবাদ নয়, বরং গোটা রাজ্যের সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া মানুষের ভোটব্যাঙ্কে কি বড়সড় ধাক্কা দিতে পারবে, তা সময়ই বলবে।
হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, তিনি আর ‘অনুগামী’ হয়ে থাকতে রাজি নন। তাঁর লক্ষ্য এখন জনতা বা পিপলস পাওয়ার। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আর জনতার অধিকার— এই দুই অস্ত্রকে সামনে রেখেই ময়দানে নামছে জনতা উন্নয়ন পার্টি। কোনো বিশেষ দলের বি-টিম নয়, বরং স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবে নিজেদের জাহির করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হুমায়ুন বাহিনীর।
নতুন দল প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীরকে বলতে শোনা যায়, “দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করছি। এবার সরাসরি জনতার দরবারে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হতে চাই। উন্নয়নই আমাদের শেষ কথা।”
এখন প্রশ্ন উঠছে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে কি তবে মুর্শিদাবাদে ত্রিভুজ লড়াইয়ের পথ প্রশস্ত হলো? জনতা উন্নয়ন পার্টি কি পারবে বড় দলগুলোর ঘর ভাঙতে? নাকি সময়ের সাথে সাথে মিলিয়ে যাবে এই নতুন গর্জন? উত্তর দেবে সময়। তবে আপাতত হুমায়ুন কবীরের এই চালে অস্বস্তিতে শাসক থেকে বিরোধী— সব শিবিরই।

