মোদীর মাস্টারস্ট্রোকে রেল থেকে রাস্তা—বিপ্লব আসছে বাংলায়
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: — ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পরিকাঠামো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে আজ, ১৪ মার্চ ২০২৬, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কলকাতা সফরে এসে একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ডালি সাজিয়ে দিয়েছেন।
শহরের ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের এক মেগা জনসভা থেকে তিনি প্রায় ১৮,৬৮০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল সড়কপথ (হাইওয়ে), রেল যোগাযোগ এবং বন্দর পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ নিশ্চিত করা, যা আগামী দিনে রাজ্যের অর্থনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন মাইলফলক তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহণকে আরও সহজতর করা। বিশেষ করে খড়গপুর-মোড়গ্রাম ইকোনমিক করিডোর এবং একাধিক রেলওয়ে স্টেশনের আধুনিকীকরণ রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্যে নতুন জোয়ার আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে জোর দিয়ে বলেন যে, এই বিনিয়োগগুলি কেবল পরিকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং রাজ্যের হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থানের পথও প্রশস্ত করবে।
প্রধানমন্ত্রী মোট ৪২০ কিলোমিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্যের জাতীয় সড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। ১) ২৩১ কিমি দীর্ঘ এই চার লেনের রাস্তার শিলান্যাস করা হয়েছে। এটি চালু হলে খড়গপুর ও শিলিগুড়ির মধ্যে দূরত্ব প্রায় ১২০ কিমি কমবে এবং ৭-৮ ঘণ্টা সময় বাঁচবে।
২)পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড জুড়ে বিস্তৃত এই জাতীয় সড়কগুলির বিভিন্ন অংশের উদ্বোধন করা হয়েছে। ৩)বীরভূমের দুবরাজপুর শহরের যানজট কমাতে ৫.৬ কিমি দীর্ঘ চার লেনের বাইপাসের শিলান্যাস করা হয়ছে।
৪)কংসাবতী ও শিলাবতী নদীর ওপর অতিরিক্ত চার লেনের বড় সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
তাঁর দ্বারা রেলওয়ে প্রকল্প – ১)প্রধানমন্ত্রী পুরুলিয়া-আনন্দ বিহার টার্মিনাল (দিল্লি) এক্সপ্রেস ট্রেনের শুভ সূচনা করেছেন।
২)পশ্চিমবঙ্গের ৬টি পুনর্নির্মিত রেলওয়ে স্টেশনের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই স্টেশনগুলি হলো— কামাখ্যাগুড়ি, আনারা, তমলুক, হলদিয়া, বীরভূম (বরভূম) এবং সিউড়ি।
৩)বেলদা ও দান্তনের মধ্যে ১৬ কিমি দীর্ঘ তৃতীয় রেললাইন এবং মধ্যে স্বয়ংক্রিয় ব্লক সিগন্যালিং ব্যবস্থার উদ্বোধন করা হয়েছে।
তাঁর দেওয়া বন্দর ও জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত প্রকল্প
১)হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স এ পণ্য খালাস দ্রুত ও পরিবেশবান্ধব করতে ২ নম্বর বার্থের আধুনিকীকরণের উদ্বোধন করা হয়েছে।
২)খিদিরপুর ডক-১ (পশ্চিম) অংশের সংস্কার প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
৩)কলকাতা রিভারফ্রন্টের হাওড়া ব্রিজ পিলন থেকে নিমতলা ঘাট পর্যন্ত এলাকা সংরক্ষণের কাজ এবং রিভার ক্রুজ টার্মিনাল ভবনের শিলান্যাস করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন যে, এই প্রকল্পগুলি পশ্চিমবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন গতি আনবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর পশ্চিমবঙ্গের পরিকাঠামো উন্নয়নে এক নতুন গতির সঞ্চার করল। হাজার হাজার কোটি টাকার এই বিনিয়োগ কেবল রাস্তা বা রেললাইন তৈরি নয়, বরং রাজ্যের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের এক বলিষ্ঠ অঙ্গীকার। এই প্রকল্পগুলি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের দৈনিক জীবনযাত্রা যেমন সহজ হবে, তেমনি রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্যেও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

