নিজস্ব প্রতিনিধি:- রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের পশু চিকিৎসা শিবির থেকে উপকৃত মহিলা পশু পালক রিতা ঘোষ (৩৬), পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা ২ নম্বর ব্লকের ক্ষেত্রপাল গ্রামের পশু পালক। রিতা অষ্টম শ্রেণী পাশ করার পর দারিদ্রের কারণে আর পড়াশোনা চালিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি। রিতার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন। পরিবারের মূল জীবিকা চাষ ও পশুপালন। বর্তমানে পশু পালনের মধ্যে পাঁচ-টি গরু এবং চার-টি ছাগল রয়েছে। তবে পশু পালন জীবিকা হলেও মূলতঃ ঘরোয়া ও প্রথাগত পদ্ধতিতেই পশু পালন করতেন। বিশেষ করে ফার্ম ব্যবস্থাপনা, টিকাকরণের সূচি, পশু চিকিৎসার বিষয় গুলি অনেকটাই অজানা ছিল। ফলে সঠিক রোজগারের দিশা খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিনই ছিল।
সম্প্রতি রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন এই গ্রামে একটি সম্পূর্ণ নিখরচায় পশু চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করে ১১ই ফেব্রুয়ারী,২০২২ সালে। সৌভাগ্যবশতঃ রিতা এই ক্যাম্পে অংশ গ্রহণ করার সুযোগ পায় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ঔষধ পান, কারণ দুটি গরুর দুধের পরিমান খুবই কমে যাচ্ছিল। চিকিৎসা ও ঔষধ মিলিয়ে মোট ৫২০০/- টাকার পরিষেবা এই ক্যাম্প থেকে পান রিতা। ঔষধের পাশাপাশি ডাক্তারের পরামর্শমতো গাভীর পরিচর্যা করার ফলে বর্তমানে গরুর দুধের পরিমান চার কেজি বৃদ্ধি পায়। স্বাভাবিক ভাবেই মাসিক রোজগার বাড়ে প্রায় ৫০০০/- টাকা।
রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের পশু চিকিৎসা শিবির থেকে উপকৃত মহিলা পশুপালক রিতা ঘোষ
পাশাপাশি ছাগলের টিকাকরণের ফলে অসুস্থ হওয়ার প্রবণতাও অনেক কমে গেছে। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের এই পরিষেবায় উপকৃত রিতার কথায় ” দীর্ঘ দিন পশু পালনের সাথে যুক্ত থাকলেও সম্পূর্ণ ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করার ফলে দুধের পরিমান অনেকটাই কম হতো, পাশাপাশি পশুর চিকিৎসার জন্যও অনেকটাই খরচ হতো। বর্তমানে লাভের পরিমান তো বেড়েছেই, পাশাপাশি আধুনিক ব্যয় সাশ্রয়ী চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হয়েছি”। এভাবেই গ্রাম বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামে পরিষেবার ডালি নিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার কাজে নিরলস কর্মরত রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের কর্মী বাহিনী।

