বীরভূম জেলার বোলপুর শ্রীনিকেতন ব্লকের অন্তর্গত যাদবপুর গ্রামের অভিজ্ঞ কৃষক আনারুল শেখ (৫২) দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে ধান চাষের সাথে যুক্ত। চার সদস্য বিশিষ্ট পরিবারটির কৃষি জমির পরিমান প্রায় এক একর। ২০২২ সালের জুন মাসে আনারুল রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের আয়োজিত কৃষকদের কৃষির চাহিদা নির্ধারণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন এবং ফাউন্ডেশনের কৃষি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সহায়তা কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত হন এবং রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন পরিচালিত ডিজিটাল ফার্ম স্কুলের সাথে যুক্ত হন। বর্তমানে যাদবপুর গ্রামের এই ফার্ম স্কুলে ৪৫ জন কৃষক যুক্ত আছেন যাদের মূল জীবিকা ধান চাষ। মূলতঃ কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল ধানের ব্যবহার, বীজতলা তৈরি, জমিতে সার ও জলের কাম্য ব্যবহার, কীট নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি শেখানোর উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করা হতো।
আনারুল মূলতঃ MTU ৭০২৯ প্রজাতির ধান চাষ করতেন। কিন্তু গত বছর বর্ষাকালীন ধান চাষে কৃষি বিশেষজ্ঞের সুপারিশমত MTU ১০১০ প্রজাতির ধান বীজ ব্যবহার করেন। কিন্তু জানুয়ারী ২০২৩ এর শেষ দিকে ধান গাছ ঝলসা রোগে আক্রান্ত হয় এবং ধানের শীষ শুকিয়ে ধূসর বর্ণ ধারণ করে। এমতাবস্থায়, ডিজিটাল ফার্ম স্কুলের মাধ্যমে এবং ব্লক কৃষি উন্নয়ন বিভাগের ATMA দপ্তরের মাধ্যমে ধানের উৎপাদিকা শক্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ৫, ডিসেম্বর ২০২৩ সালে যাদবপুর গ্রামে একটি face to face কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই সময় আনারুল কৃষি বিজ্ঞানীকে ঝলসা রোগ ও মাজরা পোকার আক্রমণের কথা জানালে তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধ এর সুপারিশ করেন। সেইমতো ওষুধ প্রয়োগের ফলে এক সপ্তাহের মধ্যে ধান গাছ ঝলসা রোগমুক্ত হয়।
অন্যান্য বছরে যেখানে এক একর জমিতে ধানের উৎপাদন হতো ২০ বস্তা, অর্থাৎ ১.২ কুইন্টাল (প্রতি বস্তা = ৬০ কেজি), সেখানে গত মরশুমে উৎপাদন হয়েছে ২৭ বস্তা, অর্থাৎ প্রায় ১.৬২ কুইন্টাল। পাশাপাশি উৎপাদন খরচ হতো আগে একর প্রতি প্রায় ১২,০০০/- টাকা, কিন্তু গত মরশুমে খরচ কমে হয়েছে ১০,০০০/- টাকা। ধানের বিক্রয় মূল্য বস্তা প্রতি ১০০০/-টাকা। স্থানীয় ব্যবসায়ীর কাছেই নগদে এই ধান বিক্রি করা হয়েছে। নীট লাভ পূর্বে ছিল ৮০০০/- টাকা, গত মরশুমে ১৭,০০০/- টাকা। এভাবেই গ্রাম বাংলার প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকদের কাছে আধুনিক কৃষির খুঁটিনাটি পৌঁছে দিয়ে কৃষি অর্থনীত শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অবিচল রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন।

