স্বর্ণালী হালদার, কলকাতা:— শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে পথে? বিহারে শিক্ষকদের দিয়ে পথকুকুর গণনার নির্দেশ ঘিরে তীব্র বিতর্ক
গুনতে হবে পথকুকুরের সংখ্যা—এমনই এক অদ্ভুত নির্দেশ ঘিরে এখন তুমুল বিতর্ক বিহারে। সম্প্রতি বিহারের রোহতাস জেলার সাসারাম পুরসভার জারি করা একটি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পথকুকুরের সংখ্যা নির্ধারণের কাজে শিক্ষকদের যুক্ত করা হবে। মূলত সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের এই দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। নির্দেশ প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠছে—শিক্ষকদের কাজ কি তবে শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে পথে নেমে কুকুর গোনা?
পুরসভার তরফে দাবি করা হয়েছে, পথকুকুরের সংখ্যা জানা না থাকলে টিকাকরণ, নির্বীজন ও জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। সীমিত কর্মী ও পরিকাঠামোর কারণে অস্থায়ীভাবে শিক্ষকদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। তবে এই ব্যাখ্যায় মোটেই সন্তুষ্ট নন শিক্ষক মহল। তাঁদের বক্তব্য, পড়াশোনা ও প্রশাসনিক কাজের চাপের মধ্যেই শিক্ষকরা নাজেহাল। তার উপর এমন দায়িত্ব দিলে শিক্ষার মান আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশ এই নির্দেশকে “অযৌক্তিক ও অবমাননাকর” বলে দাবি করেছে। তাঁদের মতে, শিক্ষকদের দিয়ে আদমশুমারি, ভোটের কাজ বা ত্রাণ বণ্টনের মতো দায়িত্ব দেওয়া হলেও, পথকুকুর গণনার মতো কাজ শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে কোনওভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তাহলে কি সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মীদের আর কোনও ভূমিকা থাকছে না?
অন্যদিকে, প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, শহরের স্বার্থে সাময়িক অসুবিধা মেনে নেওয়া উচিত। তাঁদের দাবি, এটি স্থায়ী ব্যবস্থা নয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে। তবে বিতর্ক যে সহজে থামছে না, তা স্পষ্ট। সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গ, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
সব মিলিয়ে, পথকুকুর গণনার নির্দেশ শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রশাসনিক দায়িত্বের সীমারেখা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে।

