Tuesday, February 17, 2026
- Advertisement -

সাপে ভয় নয় আশীর্বাদের বিশ্বাস মনসাদেবীর আরাধনা, প্রাচীন ঐতিহ্যের মনসা পুজোতে ভক্তদের ঢল বিশেষ তিথি ও নক্ষত্রে হচ্ছে আয়োজন!

- Advertisement -

সাপে ভয় নয় আশীর্বাদের বিশ্বাস মনসাদেবীর আরাধনা, প্রাচীন ঐতিহ্যের মনসা পুজোতে ভক্তদের ঢল বিশেষ তিথি ও নক্ষত্রে হচ্ছে আয়োজন!

নিউজ ডেস্ক :- রাজ্যের নানা প্রান্তে শুরু হয়েছে মনসাদেবীর পুজো। সাপের দেবী হিসেবে পরিচিত মনসা, ভক্তদের কাছে আশীর্বাদ, রক্ষা ও কল্যাণের প্রতীক। প্রাচীন বিশ্বাস অনুযায়ী, মনসাদেবীর পূজোয় সাপের ভয় দূর হয়, সাপদংশন থেকে মুক্তি মেলে এবং পরিবারের সুস্থতা ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে। শুধু সাপের ভয় নয়, কৃষিক্ষেত্রের উন্নতি, ব্যবসায় লাভ এবং দুর্যোগ থেকে রক্ষার জন্যও ভক্তরা এই পূজা করেন।

মনসা পুজোর মাহাত্ম্য নিয়ে প্রচলিত আছে বহু কাহিনি। ‘মনসামঙ্গল কাব্য’-এ উল্লেখ আছে যে, মনসা ছিলেন শিবের কন্যা এবং তাঁর পূজো না করলে তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে বিপদ ডেকে আনতেন। গৌরী, চাঁদ সদাগর ও বেহুলা-লখিন্দরের কাহিনি বাঙালির লোকসংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত, যেখানে মনসার পূজোর মাহাত্ম্য ফুটে উঠেছে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ভক্তি ও নিষ্ঠা নিয়ে মনসার আরাধনা করলে জীবনের নানা বিপদ কেটে যায়।

এই পূজোর সূচনা কতটা প্রাচীন, তা ইতিহাসের পাতায় স্পষ্ট। ধারণা করা হয়, কৃষিনির্ভর বাংলায় সাপের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রামীণ জীবনের সুরক্ষার জন্য মনসাদেবীর পূজা শুরু হয়েছিল। বৃষ্টি ও ফসলের সময়কাল মিলিয়ে শ্রাবণ মাসকে এই পূজোর জন্য বেছে নেওয়া হয়। গ্রামীণ মেলা, ‘মনসামঙ্গল পাঠ’, নৌকাবাইচ ও লোকগানের মাধ্যমে এই পুজো ধীরে ধীরে লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে।

এই বছর মনসা পুজো হবে ১৯ আগস্ট, সোমবার। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে এই পুজো পালিত হবে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, তৃতীয়া তিথি শুরু হবে ১৮ আগস্ট রাত ৯টা ৪৮ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৯ আগস্ট রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে। এই সময়ে থাকবে ‘রোহিণী নক্ষত্র’, যা শুভ ফল প্রদায়ক বলে মনে করা হয়। পুরোহিতদের মতে, এই নক্ষত্রে মনসার আরাধনা করলে পরিবারে শান্তি, ধন-সম্পদ ও স্বাস্থ্য বৃদ্ধি পায়।

পুজোর দিন ভোর থেকে মন্দিরে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। ফুল, শোলা, দুধ, মিষ্টি, সিঁদুর ও প্রদীপ দিয়ে দেবীর পুজো হয়। সাপের প্রতীক হিসেবে মাটির বা শোলার প্রতিমা সাজানো হয়। ‘মনসামঙ্গল’ পাঠ শোনা, ভক্তিমূলক গান গাওয়া এবং বিশেষ করে নারীদের মনোস্কামনা পূরণের জন্য অঞ্জলি দেওয়া— এই সবই পুজোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। অনেক জায়গায় মেলার আয়োজন হয়, যেখানে পুজোর পাশাপাশি গ্রামীণ শিল্প ও সংস্কৃতির রঙ ছড়িয়ে পড়ে।

ভক্তদের মতে, মনসা পুজো কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং গ্রামীণ জীবনের সুরক্ষার প্রতীক। প্রাচীনকাল থেকে যে বিশ্বাস ও ঐতিহ্য ধরে রাখা হয়েছে, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আধুনিক চিকিৎসা থাকলেও সাপদংশন থেকে রক্ষার আধ্যাত্মিক বিশ্বাস মনসার পূজোকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে। এই বছর বিশেষ তিথি ও নক্ষত্রে হওয়ায় ভক্তদের আশা, দেবীর আশীর্বাদে জীবনে আসবে শান্তি ও সমৃদ্ধি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments