স্ক্রিন থেকে সরাসরি ব্যালট পেপারে ! কে এই রূপসী, যাঁর এক হাসিতেই কাঁপছে বনগাঁর ভোট-ময়দান?
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: সিল্কের শাড়ি, গলায় হার আর আত্মবিশ্বাসী হাসি সোশ্যাল মিডিয়ার গ্ল্যামার জগত থেকে সোজা রাজনীতির তপ্ত ময়দানে! তিনি কে? তিনি কি কেবলই একজন গ্ল্যামারাস ইনফ্লুয়েন্সার, নাকি রাজনৈতিক ঘুঁটি?রহস্যের আড়ালে থাকা এই মুখটি আর কেউ নন, বনগাঁর দাপুটে নেতা শঙ্কর আঢ্যর কন্যা ঋতুপর্ণা আঢ্য।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ‘তুরুপের তাস’ হিসেবে বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রে তাঁর নাম ঘোষণা হতেই শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। একদিকে তাঁর পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, আর অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ার লক্ষ লক্ষ অনুগামী—এই দুইয়ের মিশেলে তিনি কি পারবেন বিধানসভার বৈতরণী পার করতে!
২৬ বছর বয়সী ঋতুপর্ণা ছোটবেলা থেকেই রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত। এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় যে ‘নবীন-প্রবীণ’ ভারসাম্য রাখা হয়েছে, তিনি তার অন্যতম উদাহরণ।উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন।ঋতুপর্ণা বনগাঁর প্রাক্তন পুরপ্রধান শঙ্কর আঢ্যর কন্যা ।
তিনি একজন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এবং ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত।তৃণমূল কংগ্রেস তাঁর তরুণ মুখ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে যুব ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কৌশল নিয়েছে।
ঋতুপর্ণা কিন্তু রাজনীতিতে একেবারেই নতুন নন। গত পুরসভা নির্বাচনে তিনি তাঁর দাদুর আদর্শ মেনে কংগ্রেসের হয়ে লড়াই করেছিলেন ।
তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং বর্তমানে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একদিকে যেমন তাঁকে বাবার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণের মোকাবিলা করতে হবে, অন্যদিকে মতুয়া অধ্যুষিত এই এলাকায় নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে হবে।
একদিকে পারিবারিক ঐতিহ্যের ভার এবং বাবার রাজনৈতিক বিতর্কের কাঁটা, অন্যদিকে নিজের স্বতন্ত্র ইউথ আইকন ইমেজ—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে ঋতুপর্ণা এখন এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে।
তৃণমূলের এই ‘ইনফ্লুয়েন্সার কার্ড’ কি বিরোধী শিবিরের মতুয়া ভোট ব্যাংকে ফাটল ধরাতে পারবে, নাকি পারিবারিক ইতিহাসের বোঝা তাঁর এই গ্ল্যামারাস রাজনৈতিক অভিষেককে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে?দিনশেষে, সোশ্যাল মিডিয়ার লাইক আর সাধারণ মানুষের ভোট-এর মধ্যকার ব্যবধান ঘোচাতে ঋতুপর্ণা কতটা সফল হন, তা সময়ই বলে দেবে।

