অর্চিতা মন্ডল, হুগলী :— ১৩ ই মার্চ ABTA-সহ ৮ টি শিক্ষক সংগঠন এবং ৫৬ টি বাম সরকারি কর্মচারী সংগঠনের ডাকে রাজ্যের প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে অফিস আদালতে ধর্মঘটের জন্য ডাক দেওয়া হল।
নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি পক্ষ থেকে ধর্মঘটকারীরা ছয় দফা দাবি সামনে রেখে রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে ১৩ মার্চ ২০২৬ স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি দপ্তরগুলিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। এই আহ্বানে সামিল হয়েছেন সরকারি কোষাগার থেকে বেতন প্রাপ্ত সকল কর্মচারী সমাজ। মঙ্গলবার ইন্দিরা সল্টলেক সিটি সেন্টার থেকে মিছিল শুরু করে ইন্দিরা ভবনের সামনে তৈরি অস্থায়ী মঞ্চে। নিজেদের বক্তব্য জানানোর পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের তরফে ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল বিকাশ ভবনে গিয়ে কমিশনার অফ স্কুল এডুকেশন এর কাছে হলফনামা পেশ করেন।
ধর্মঘটের ৬ দাবী সমূহ
১.পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকারের পঞ্চম বেতন কমিশনের ডি.এ. কর্মচারীদের প্রাপ্ত অধিকারকে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় প্রদান করেছে ২০০৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া ডি.এ. প্রদান এবং ডি.এ. কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের একটি অধিকার তাতে উল্লেখিত হয়েছে।
উপরন্তু ডি.এ. প্রদানের জন্য সুপ্রিম কোর্টের সময়সীমানুযায়ী তা দিতে হলে এই সময়কালের মধ্যে রাজ্য সরকারকে তার বিভিন্ন দপ্তরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির নির্দেশনামা দিতে হবে।
২) সংবিধানের ১৪, ১৬ এবং ৩৯(ডি) ধারানুযায়ী সরকারকে সমকাজে সমবেতন প্রদান করতে হবে। কিন্তু এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনামা থাকা সত্ত্বেও, রাজ্য সরকার তা পালন করছে না।
৩) রাজ্য সরকারি দফতর এবং বিদ্যালয়গুলিতে প্রচুর সংখ্যক অস্থায়ী কর্মচারী আছেন, তাঁদের স্থায়ীকরণ করা রাজ্য সরকারের ওপর বর্তায়।
৪) রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সরকারে আসার আগে ঘোষণা করেছিলেন পার্শ্ব শিক্ষকদের টাকার অঙ্ক নিয়ে ভাববেন। উল্টে তাঁদের সাম্মানিক এই বছর বাজেটের এক হাজার টাকা বৃদ্ধি করেছে এবং বলেছেন যুবসাথীর বেকারদের চেয়ে পার্শ্ব শিক্ষকদের নিয়ে সরকারের বাড়তি কোনো ভাবনা নেই।
৫) কারিগরি শিক্ষক এবং আই সি টি শিক্ষকগণ নিয়মিত তাঁদের যৎসামান্য প্রাপ্য সাম্মানিক না পাওয়ায়, তাঁদের জীবন-যাপন কষ্টকর।
৬) ২০১৬ সালের যোগ্য কর্মরত সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবিলম্বে সসম্মানে পুনর্বহাল করতে হবে। সেইসঙ্গে স্নাতক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পে-স্কেল ১৪র আওতায় আনতে হবে; এবং শিক্ষাকর্মীদের জন্য আলাদা পে-স্কেল চালু করতে হবে।

