ত্রাহি ত্রাহি অটো চালকদের জ্বালানি সংকটে নাজেহাল জনজীবন
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: শহরের রাজপথ আজ অটোর পরিচিত শব্দে নয়, বরং পাম্পের সামনে এক নিস্তব্ধ দীর্ঘ লাইনে থমকে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে অটো এলপিজি (LPG) সংকটের কারণে এক চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রতিদিনের রুজি-রুটির টানে রাজপথে নামা হাজার হাজার অটো চালক এখন যাত্রী পরিবহনের বদলে পাম্পের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এই জ্বালানি ঘাটতির ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের যাতায়াতে নাভিশ্বাস উঠছে, অন্যদিকে অটো চালকদের দৈনন্দিন আয়ের ওপরও এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।রান্নার গ্যাসের মতো এবার ‘অটো এলপিজি’-র টান পড়ায় ঘোর বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার চালক। ভোরের আলো ফোটার আগেই যেখানে যাত্রীদের ভিড় থাকার কথা, সেখানে এখন কিলোমিটার জুড়ে কেবল সারিবদ্ধ অটোর অপেক্ষা।
পাম্পভেদে গ্যাসের দাম লিটার প্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।তারাতলা, বেহালা, ঠাকুরপুকুর, গার্ডেনরিচ এবং মেটিয়াবুরুজের মতো এলাকায় ভোর ৪টে থেকে অটো চালকরা গ্যাসের জন্য লাইন দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ৫-৬ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন রুটে অটোর ভাড়া ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে, যা নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।
বাংলাদেশের ও পরিস্থিতি একই। ঢাকা ও আশেপাশের পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল এবং ব্যক্তিগত গাড়ির সাথে সিএনজি/অটোচালকদেরও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। রাজধানীর বিজয় সরণি থেকে শাহীন কলেজ পর্যন্ত লাইনের দৈর্ঘ্য ১.৫ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।সরকার পরিস্থিতি সামলাতে জ্বালানি বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করেছে। ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য সর্বোচ্চ ১০ লিটার এবং মোটরসাইকেলের জন্য ২ লিটার তেল বরাদ্দ করা হয়েছে।
জ্বালানির এই আকাল শুধু একটা যান্ত্রিক সমস্যা নয়, বরং হাজার হাজার পরিবারের রুজি-রুটির লড়াই। যদি দ্রুত জোগান স্বাভাবিক না হয়, তবে এই দীর্ঘ লাইন কেবল পাম্পেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আছড়ে পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটেও। গতির এই শহরে অটো কবে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে, সেই উত্তরের অপেক্ষায় এখন শহরবাসী।

