Sunday, March 29, 2026
- Advertisement -

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ; অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সব রাজ্যকে নিয়ে ‘মাস্টার প্ল্যান’ সাজাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

- Advertisement -

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ; অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সব রাজ্যকে নিয়ে ‘মাস্টার প্ল্যান’ সাজাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ।

অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘ আর বিশ্ব অর্থনীতিতে তার সম্ভাব্য প্রভাব—এই দুইয়ের মোকাবিলায় ভারত এখন হাই-অ্যালার্টে। একদিকে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, আর অন্যদিকে দেশের জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ। ঠিক এই সংকটময় মুহূর্তে ‘টিম ইন্ডিয়া’র স্পিরিট নিয়ে রণকৌশল সাজাতে আজ সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

যুদ্ধ পরিস্থিতি ভারতের সাধারণ মানুষের পকেটে কতটা টান ফেলবে কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জোগান কতটা অটুট থাকবে, আজকের এই বৈঠক থেকেই মিলবে তার দিশা।

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি পর্যালোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২৭ মার্চ, ২০২৬ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে বসতে চলেছেন।

যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারতের অশোধিত তেল ও এলপিজি (LPG) সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাজ্যগুলোর সাথে সমন্বয় বাড়ানোই এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের জোগান যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে রাজ্যগুলোকে সতর্ক করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে রাজ্য সরকারগুলোর সহায়তা ও প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হবে।

প্রধানমন্ত্রী “টিম ইন্ডিয়া” হিসেবে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলোর মধ্যে কাজের সমন্বয় বা সিনার্জি তৈরির ওপর জোর দেবেন।

বর্তমানে যে রাজ্যগুলোতে নির্বাচন চলছে (যেমন—পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরালা, অসম এবং পুদুচেরি) সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা নির্বাচনী বিধি মেনে এই বৈঠকে যোগ দেবেন না। তবে ওইসব রাজ্যের মুখ্য সচিবদের সাথে ক্যাবিনেট সচিবালয় আলাদাভাবে বৈঠক করবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকার জ্বালানি, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং সার সংক্রান্ত কৌশলের জন্য ৭টি ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেছে।

পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রের আঁচ যাতে ভারতের সাধারণ মানুষের হেঁশেলে বা পকেটে না লাগে, তার জন্যই এই মহাসমন্বয়। যুদ্ধের মেঘ যত ঘনই হোক না কেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের এই যৌথ রণকৌশল দেশবাসীকে এক শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে—ভারত কেবল সতর্ক নয়, বরং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রীর এই ‘টিম ইন্ডিয়া’ মন্ত্রই এখন আগামীর অনিশ্চয়তা কাটানোর একমাত্র হাতিয়ার। এখন দেখার, বৈঠকের এই ব্লু-প্রিন্ট বাস্তবে কতটা দ্রুত কার্যকর হয় এবং বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মাঝেও দেশের স্থিতিশীলতা কতটা অটুট থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments