Sunday, March 29, 2026
- Advertisement -

শাসনে আরও রাশ! মন্ত্রীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নজিরবিহীন বিজ্ঞপ্তি

- Advertisement -

শাসনে আরও রাশ! মন্ত্রীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নজিরবিহীন বিজ্ঞপ্তি

অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: রাজ্য প্রশাসনের অন্দরমহলে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এক নজিরবিহীন ও কড়া পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের সাম্প্রতিক এক নির্দেশিকায় সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য যদি চিকিৎসার প্রয়োজনে রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে অন্য কোথাও যেতে চান, তবে তাঁর জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অনুমতি নেওয়া এখন থেকে বাধ্যতামূলক।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে যে, রাজ্যের কোনো মন্ত্রী যদি চিকিৎসার প্রয়োজনে রাজ্যের বাইরে যেতে চান, তবে তার জন্য সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রশাসনের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সরকারি বিধিবিধান আরও কঠোর করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

কোনো মন্ত্রী ব্যক্তিগত বা সরকারি কোনো কারণ দেখিয়ে চিকিৎসার জন্য রাজ্যের বাইরে অন্য কোথাও যেতে চাইলে আগে থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে। এই নির্দেশিকাটি রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর থেকে জারি করা হয়েছে, যা রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। মন্ত্রীদের গতিবিধি এবং সরকারি খরচে চিকিৎসার ক্ষেত্রে আরও বেশি নজরদারি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মন্ত্রীদের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখা এবং যে কোনো প্রকার বিতর্ক এড়াতে এই নিয়ম চালু করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

এর আগে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে রাজ্যের বাইরে চিকিৎসার জন্য অর্থ দপ্তরের অনুমতি লাগত। এখন মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও একই ধরণের কড়াকড়ি নিয়ম সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে আনা হলো। চিকিৎসার পাশাপাশি সম্প্রতি মন্ত্রীদের যে কোনো ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান বা সামাজিক কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেও মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার পাঠ দিতে নবান্নের এই ‘কড়া দাওয়াই’ এক নতুন প্রশাসনিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। মন্ত্রীদের গতিবিধিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি নজরদারি কেবল সরকারি কোষাগারের রাশ টানাই নয়, বরং রাজ্য মন্ত্রিসভায় একচ্ছত্র দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার পথে এক বড় পদক্ষেপ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments