বীরভূম থেকেই বাঙালি অস্মিতা ও পরিযায়ীদের উপর অত্যাচার নিয়ে পথে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী
মনিপুষ্পক খাঁ, শান্তিনিকেতন: – সোমবার রবীন্দ্রনাথের কর্মভূমি বোলপুর শান্তিনিকেতন থেকেই বাঙালি অস্মিতা ও রাজ্যে রাজ্যে পরিযায়ীদের উপর অত্যাচার নিয়ে পথে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সন্ধ্যায় তিনি শান্তিনিকেতনের বল্লভপুরে রাঙাবিতান অতিথি নিবাসে পৌঁছান সেখানে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানান রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, মলয় ঘটক, বীরভূম জেলার কোর কমিটির চেয়ারপার্সন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, কোর কমিটির সদস্য কাজল শেখ , অভিজিৎ সিংহ, বোলপুর লোকসভার সাংসদ অসিত মাল।
অনুব্রত মণ্ডল কেও কিছু সময় পর দেখা যায় সেখানে। তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্যরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পাঁচ মিনিট সৌজন্য সাক্ষাৎ করে বেরিয়ে যান, তারপরই দেখা যায় অনুব্রত ও তার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কোর কমিটির ৩ সদস্য মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী, জেলা সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। তৃণমূল সূত্রে খবর মুখ্যমন্ত্রীর সাথে অনুব্রত মণ্ডলের ১০ মিনিট কথাবার্তা হয়েছে, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
দুদিনের বীরভূম সফরে মুখ্যমন্ত্রী আজ দুপুরে গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহে প্রশাসনিক বৈঠক করেন, বৈঠকে অনুব্রত ও কাজল শেখ দুজনেরই উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মুখ্যমন্ত্রী এদিনের প্রশাসনিক সভা থেকে ফের আরো একবার রাজ্যে রাজ্যে বাঙালীদের উপর ভাষা সন্ত্রাসের অভিযোগ আনেন, তিনি বলেন ” বাইরের রাজ্যে আমাদের ২২ লক্ষ পরিযায়ী আছে তাদের ফেরত আনুন।
যাদের থাকার জায়গা নেই তাদের জন্য আমরা ক্যাম্প করে দেব।” তাঁর আরো সংযোজন ওরা বাচ্চাদেরও ছাড়ছে না,ওদের উপর নির্যাতন করছে। সেই সাথেই মমতার বার্তা জেলাশাসক রা মনে রাখবেন আপনারা রাজ্য সরকারি কর্মচারী, ভোটের নোটিফিকেশন আসার আগে পর্যন্ত আপনারা রাজ্যের হয়ে কাজ করেন, শুধুমাত্র নির্বাচনের সময় আপনারা নির্বাচন কমিশনের হয়ে কাজ করেন, ভোট শেষ হয়ে গেলে ফের আপনারা আমাদের ( রাজ্যের ) হয়ে কাজ করেন সুতরাং মনে রাখবেন মানুষের যাতে অসুবিধা না হয়।
অনেক সময় আপনারা আমাকে না জানিয়ে বেশ কিছু কাজ করছেন, অন্য কাউকে দায়িত্ব দিয়ে দিচ্ছেন এগুলো করবেন না। এদিনের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা সরকার তো মানুষের জন্য কাজ করছে আপনারা পাড়ায় সমাধানের মাধ্যমে লোকাল কাজগুলো করুন, মানুষের পাশে থাকুন।
এদিন বোলপুর শান্তিনিকেতন মুখ্যমন্ত্রী বাঙালি অস্মিতা ও পরিযায়ীদের হেনস্তার প্রতিবাদ মিছিলও করেন।

