Sunday, March 29, 2026
- Advertisement -

ঝঞ্ঝার মরণকামড়: তছনছ বাংলার আবহাওয়া, টানা বৃষ্টির লাল সতর্কতা

- Advertisement -

ঝঞ্ঝার মরণকামড়: তছনছ বাংলার আবহাওয়া, টানা বৃষ্টির লাল সতর্কতা।

অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের আবহাওয়ায় বর্তমানে পশ্চিমি ঝঞ্ঝা এবং পূবালী হাওয়ার সংঘাতের ফলে এক অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক ঝঞ্ঝার প্রভাবে স্বাভাবিক ঋতুচক্রকে ছাপিয়ে অকাল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট শুরু হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের মতে, এই পরিস্থিতির কারণে রাজ্যজুড়ে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা জনজীবন ও কৃষিকাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় বড়সড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। একের পর এক ঝঞ্ঝার কারণে আগামী কয়েকদিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

 

দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া

দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে কালবৈশাখীর মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, দুই বর্ধমান, বীরভূম, হুগলি এবং হাওড়ায় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০-৭০ কিমি, এমনকি কখনো কখনো ৮০ কিমি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি শিলাবৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

কলকাতায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে এবং ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিমি থাকতে পারে । ২৩ ও ২৪ মার্চ আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার সম্ভাবনা থাকলেও বড় কোনো দুর্যোগের সতর্কতা আপাতত নেই।

উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কোচবিহারে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও ঘণ্টায় ৩০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু জরুরি নির্দেশিকা দেওয়া হয় যেগুলো মেনে চলা উচিত –

বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন। গাছ বা ইলেকট্রিক পোলের নিচে দাঁড়াবেন না।

ঝড়ের সময় কাঁচা বাড়ি বা দুর্বল কাঠামোর নিচে আশ্রয় নেওয়া এড়িয়ে চলুন।

কৃষকদের কাটা ফসল দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে বৃষ্টির কারণে ক্ষতি না হয়।

উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির রেশ আগামী ২৭ মার্চ পর্যন্ত চলতে পারে, তবে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট মার্চের শেষের দিকে কিছুটা কমতে পারে ।

পশ্চিমি ঝঞ্ঝার এই ঘনঘন উপস্থিতি এবং তার সাথে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পের সংঘাত বাংলার আবহাওয়াকে রীতিমতো অস্থির করে তুলেছে। টানা ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও, সঠিক সময়ে আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তা মেনে চললে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা কমানো সম্ভব। প্রকৃতির এই খামখেয়ালি আচরণ মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকা এবং বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments