পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী-১ ব্লকের চক বামনগরিয়া গ্রামের মধ্য ত্রিশের কৃষক সুশান্ত পাত্র। মাধ্যমিক উত্তীর্ণ সুশান্তর পরিবারের সদস্য সংখ্যা তিন জন। বর্তমানে সুশান্ত রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের ডিজিটাল ফার্ম স্কুলের সক্রিয় সদস্য – খুঁজে পেয়েছে কৃষি সমস্যা সমাধানের তাৎক্ষণিক দিশা। বিগত রবি মরশুমে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের অডিও কনফারেন্স ও হেল্পলাইন থেকে আবহাওয়ার তথ্যে একদিকে যেমন আমন ধানের ফলন বাড়িয়েছে, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করেছে ফসল। আজ আমরা শোনাবো এই উত্তরণের কথা।
সুশান্ত প্রথাগত পদ্ধতিতেই বাজার লভ্য বীজেই ধান চাষ করেন। কিন্তু প্রতি বছর মাজরা পোকায় বেশ কিছুটা ধান নষ্ট করে দেয়। এই পোকায় গাছের রস খেয়ে গাছের গুণমান নষ্ট করে দিতে। ফলে পরিশ্রম ও পুঁজি বিনিয়োগের তুলনায় উৎপাদন অনেকটাই কম হতো। এ বছরও এর অন্যথা হয়নি। কিন্তু এ বছর ১৭-ই অক্টোবর ২০২৩ এবং ২৯ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন আয়োজিত দুটি অডিও কনফারেন্স থেকে কৃষি বিশেষজ্ঞের এর সুপারিশ মতো কীট নাশক ওষুধের সঠিক ব্যবহার করে এবং MTU 7029 এর বীজ ব্যবহার করে আশাতীত ফলন পেয়ছেন সুশান্ত। পাশাপাশি বীজ বপন, দুটি গাছের মধ্যে দূরত্ব, সারের সঠিক প্রয়োগ ইত্যাদি তথ্য তো ছিলই। ফলস্বরূপ, প্রতি বছর যেখানে বিঘা প্রতি ফলন হতো ৬-কুইন্টাল থেকে ৬.৫ কুইন্টাল, এ বছর সেখানে হয়েছে ৮.০০ কুইন্টাল।
শুধু তাই নয়, ডিসেম্বর ২০২৩ মাসের প্রথম সপ্তাহে আচমকাই আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে। এমতাবস্থায় কোন সময় নষ্ট না করে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন-এর হেল্পলাইন নম্বর ১৮০০ ৪১৯ ৮৮০০ থেকে আবহাওয়ার তথ্য নিয়ে জমির সমস্ত ধান কেটে ফেলেন সুশান্ত। কিন্তু পাশাপাশি অনেক কৃষকেরই প্রায় গড়ে ৪০% থেকে ৬০% শতাংশ নষ্ট হয় যায়। স্থানীয় বাজারে কুইন্টাল প্রতি ২৩০০/- টাকা থেকে ২৪০০/- টাকা দরে ধান বিক্রি করেন সুশান্ত। মোট আয় প্রায় ১৯,০০০/- টাকা, বিগত বছরের তুলনায় প্রায় ৪০০০/- টাকা অতিরিক্ত।
রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞ সুশান্তের কথায় ” গ্রামের কৃষকদের কাছে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং সঠিক সময় সঠিক তথ্যের পরিষেবা আজও অধরা। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন এর হেল্পলাইন নম্বর এবং ডিজিটাল ফার্ম স্কুল এই দূরত্ব ঘুচিয়ে কৃষিকে করেছে সুস্থায়ী এবং লাভজনক “।

