মিনতি মন্ডল (৩০), মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রাম ব্লকের অন্তর্গত মাঝিগ্রাম এর কৃষি বধূ। মিনতির স্বামী পেশায় দিন মজুর। চার সদস্য বিশিষ্ট পরিবারটির জীবন জীবিকা মূলতঃ ধান, সবজি চাষ ও পশুপালনের উপর নির্ভরশীল। অষ্টম মান উত্তীর্ণ মিনতি “মাঝিগ্রাম মা কালী স্বনির্ভর গোষ্ঠী”-র একজন সক্রিয় সদস্য। ছোট বেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি মিনতির কৃষিকাজের উপর ঝোঁক ছিল। কৃষির প্রতি এই ভালোবাসা থেকেই বিবাহের পর সাংসারিক কাজের পাশাপাশি পারিবারিক কৃষি ও পশুপালনের কাজেও মিনতি সমান পারদর্শী।
মিনতি রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন এর হেল্পলাইন ও জীবিকা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের কথা জানতে পারেন ২০২১ সালে স্ব-নির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে একটি সচেতনতা শিবিরে। বর্তমানে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন এর কৃষি, পশুপালণের বিভিন্ন ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণের একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী মিনতি। পাশাপাশি স্ব-নির্ভর গোষ্ঠী সংক্রান্ত যে কোনো বিষয় নিয়মিত তথ্য আদানপ্রদান করেন হেল্পলাইনের মাধ্যমে। বিগত খরিফ মরশুমে মিনতি এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করেন। কিন্তু ধান গাছ পূর্ণতা প্রাপ্তি পেলে হটাৎই প্রায় তিন কাঠা জমিতে সাদা পোকার উপদ্রব ঘটে এবং গাছের রস চুষে খেতে থাকে। ফলস্বরূপ গাছ হলুদ বর্ণ ধারণ করে। এমতাবস্থায় মিনতি হেল্পলাইন নম্বর ১৮০০ ৪১৯ ৮৮০০ নম্বরে ফোন করে কৃষি বিশেষজ্ঞের কাছে সমস্যার কথা জানালে প্রয়োজনীয় কীটনাশক ওষুধের সুপারিশ করেন।
কৃষি বিশেষজ্ঞের নির্দেশ মেনে এবং নির্দিষ্ট ওষুধ প্রয়োগের ফলে এক সপ্তাহের মধ্যেই ধান গাছ সাদা পোকা মুক্ত হয় এবং গাছ সতেজ অবস্থায় ফিরে আসে। ফলস্বরূপ এক বিঘা জমিতে প্রায় ৫-কুইন্টাল আমন ধান উৎপাদন করেন মিনতি। কিন্তু ডিসেম্বর ২০২৩ এর প্রথম সপ্তাহে হঠাৎই আবহাওয়া খারাপ হতে থাকে। মিনতি হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করে আবৃষ্টির পূর্বাভাস জেনে সাথে সাথেই জমির সমস্ত ধান কেটে ফেলেন। এই পরিষেবায় প্রায় ৫-কুইন্টাল ধানের ক্ষতি থেকে রক্ষা পান মিনতি। শুধু তিনিই নন, মাঝিগ্রামের অন্যান্য কৃষকরাও রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের আবহাওয়ার তথ্য নিয়ে সেই সময় উপকৃত হন। পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত ধান নবগ্রাম কৃষক মান্ডি তে ২২০০/- টাকা কুইন্টাল দরে ধান বিক্রি করেন মিনতি।
উপকৃত মিনতির কথায় ” প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংবাদ সঠিক সময় না পাওয়ায় আমাদের প্রায়শঃই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের হেল্পলাইন নম্বর থেকে আমরা এখন নিয়মিত নিজেদের আপডেট রাখতে পারি, ফলে ক্ষতির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে “

