Tuesday, May 26, 2026
- Advertisement -

রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের প্রাণী স্বাস্থ্য ও টিকাকরণ শিবির থেকে উপকৃত দিঘা ক্লাস্টারের প্রাণিপালকবৃন্দ

- Advertisement -

বীরভূম জেলার সাঁইথিয়া ব্লকের দিঘা গ্রামের বাসিন্দারা মূলতঃ কৃষিকাজ ও প্রাণিপালনের সাথে যুক্ত। পরিবার সংখ্যা প্রায় ৩৪০। প্রাণিপালনের মধ্যে মূল প্রাণী হলো ছাগল ও গাভী, এছাড়া রয়েছে ভেড়া ও মুরগি। এক কথায়, দিঘা গ্রামটি প্রাণী পালনের ক্লাস্টার হিসেবেই এলাকায় চিহ্নিত। কিন্তু প্রাণিপালনের মূল সমস্যা সঠিক সময় টিকাকরণ না হওয়া এবং সাবেকি পদ্ধতিতে পশু পালন। ফলে বিগত প্রায় দুই বছর ধরে গাভীর চর্ম রোগ, যা lumpy skin disease, ছাগলের পিপিআর, বসন্ত রোগ, এফ এম ডি বা foot and mouth disease এ আক্রান্ত হয় প্রাণীর মৃত্যু ছিল খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। ফলস্বরূপ মূল জীবিকা এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে চিন্তিত হয় পড়েন সুমন, প্রিয়াশীষ, শুভাশীষ বা পুলকের মতো প্রাণিপালকরা, কারণ গ্রামে পশু চিকিৎসা বা প্রাণীদের টিকাকরনের কোনো ব্যাবস্থাই সেই অর্থে ছিল না।

সৌভাগ্যবশতঃ ২০২৩ সালের প্রথম দিকে রথীন্দ্র কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রাণী বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে গ্রামবাসীদের সাথে পরিচয় ঘটে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের। পরবর্তীকালে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শুরু হয় দিঘা গ্রামে কৃষি ও পশুপালনের উপর ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও প্রাণীর চিকিৎসা ও টিকাকারণ শিবির। সহযোগিতায় Md. Bazar Mobile Veterinary Clinic and W.B. Poultry Federation। ফলস্বরূপ, মার্চ ২০২৩ থেকে ফেব্রুয়ারী ২০২৪ পর্যন্ত দিঘা ক্লাস্টার এর বিভিন্ন এলাকা জুড়ে ৫-টি পশুচিকিৎসা ও টিকাকরন শিবিরে ২২৮ জন পশুপালকের ৩৩৮ টি গাভী, ৮২৩ টি ছাগল এবং ৩৪ টি ভেড়ার টিকাকরণ ও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ওষুধের পরিষেবা দেওয়া হয়। অর্থাৎ, এখনো অবধি প্রায় ৬৬% পরিবার সঠিক প্রাণিপালন পদ্ধতির আওতায় এসেছে – যাঁদের জীবন জীবিকা সম্পূর্ণভাবে পশুপালনের উপর নির্ভরশীল। এই টিকাকারণ ছাড়াও শিবিরে উপস্থিত পশুপালকদের সঠিক পালন পদ্ধতি সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল করে তোলা হয়।

বাস্তবিক, প্রাণিপালকরা এই শিবির থেকে আজ উপকৃত – কারণ দিঘা ক্লাস্টার এলাকায় আজ কমেছে প্রাণীর মৃত্যুহার, সুনিশ্চিত হয়েছে প্রাণীর স্বাস্থ্য। আজ আমরা বিনিময় করবো এরকমই কিছু উপকৃত প্রাণিপালকের মতামত ও অভিজ্ঞতা।
সুমন ঘোষ (২৫) বিগত ৫-বছর ধরে পশুপালনের সাথে যুক্ত। উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ সুমনের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬-জন। বর্তমানে সুমনের পশুখামারে ৫-টি গাভী রয়েছে। সুমনের মূল সমস্যা ছিল দুধের স্বল্পতা। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের পরিষেবা পাওয়ার আগে দুধের পরিমান ছিল দৈনিক মাত্র ২.০০ থেকে ২.৫ কেজি। কিন্তু প্রাণী চিকিৎসা শিবিরের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুসরণ করার ফলে উৎপাদন রয়েছে দৈনিক ৪.০০ থেকে ৪.৫০ কেজি। এছাড়া রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনে যুক্ত হওয়ার আগে এফ এম ডি আক্রান্ত হয় সুমনের দুটি গাভীরও মৃত্যু ঘটে, কিন্তু প্রাণী টিকাকরণের পর বিগত বছরে মৃত্যুর হার শূন্য। সুমনের কথায় “” অভিজ্ঞ পশু চিকিৎসকের পরামর্শে একদিকে যেমন গাভীর মৃত্যু আটকাতে পেরেছি, পাশাপাশি বেড়েছে দুধের উৎপাদন হয়েছে দ্বিগুন। আগে শুধু ঘরোয়া দুধের চাহিদাই মিটতো, কিন্তু এখন গাভী পালন অনেকটাই লাভজনক “।

আরো এখন উপকৃত প্রাণী পালক পুলক ঘোষ (৩৮)। অষ্টম মান উত্তীর্ণ সুমনের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৪-জন। পুলক প্রায় দেড় দশক ধরে প্রাণী পালনের সাথে যুক্ত। বর্তমানে পুলকের রয়েছে দুটি গরু এবং ছয়টি ছাগল। বিগত বছরে গরুর শরীর চর্ম রোগ হয় এবং চাকা চাকা হয় যায়। এছাড়া প্রায় প্রতি বছর বসন্ত রোগ, এফ এম ডি এবং পি পি আর আক্রান্ত হয় ছাগলের মৃত্যুর ঘটনা ঘটতো। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের প্রাণী চিকিৎসা শিবির থেকে পর্যায়ক্রমে পি পি আর, এফ এম ডি এবং বসন্ত রোগের টিকাকারণ করা হয়। ফলস্বরূপ, এ বছর মৃত্যুর হার শূন্য। পাশাপাশি বেড়েছে গাভীর দুধের উৎপাদন। আগে উৎপাদনের পরিমান ছিল দৈনিক গড়ে ২.৫০ কেজি, বর্তমানে দুধের উৎপাদন প্রায় ৪.৫০ কেজি।

অভিজিৎ ঘোষ (৪২) রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের জীবিকা বিকাশ সংক্রান্ত পরিষেবার কথা জানতে পারেন রথীন্দ্র কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র থেকে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে অভিজিৎ পশুপালনের সাথে যুক্ত। বর্তমানে খামারে রয়েছে চারটি গরু ও ২০-টি ছাগল। প্রায় প্রতি বছর ছাগল পি পি আর এবং গরু গলা ফোলা ও চর্ম রোগে আক্রান্ত হতো। ফলস্বরূপ, টিকাকরণের আগের বছর ৩-টি গরু ও ১৫-টি ছাগলের মৃত্যু ঘটে। প্রাণীর টিকাকরণের পর বিগত বছরে মৃত্যুর হার শূন্য। পাশাপাশি অভিজ্ঞ পশু চিকিতসকের পরামর্শে দুধের উৎপাদন প্রায় ৩.০০ কেজি থেকে প্রায় হয়েছে দৈনিক গড়ে ৫.০০ কেজি। প্রাণিচিকিৎসা কর্মসূচি থেকে অভাবনীয় ভাবে উপকৃত অভিজিতের গলায় শোনা গেল রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতার সুর। তাঁর কথায় “” কৃষির পাশাপাশি পশুপালন গ্রামীণ এলাকার মানুষের জীবিকার মূল ভিত্তি। কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষকদের পক্ষে নিয়মিতভাবে প্রাণীর টিকাকরণ ও সঠিক চিকিৎসা পাওয়া খুবই দুস্কর। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন এই দূরত্ব মিটিয়ে পশুপালন করে তুলেছে লাভজনক””।

দিঘা ক্লাস্টার এলাকার প্রাণিপালনের এই সমস্যার গভীরতার পরিপ্রেক্ষিতে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ খুবই উপযোগী ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। গ্রামের পশুপালকদের কথায় প্রতি বছর প্রাণীর অসুস্থতা ও মৃত্যু আমাদের জীবন জীবিকার প্রতিবন্ধকতা হয় দাঁড়িয়েছিল। এই শিবির থেকে বিনামূল্যে ওষুধের থেকেও অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রাণী পালনের পর্যায়ের সঠিক পদক্ষেপটি জানাই আমাদের মূল প্রাপ্তি – যা ভবিষ্যতে এই প্রত্যন্ত এলাকায় প্রাণীর মৃত্যুর হারকে কমাতে সক্ষম হবে। প্রায় দুই তৃতীয়াংশ প্রাণিপালক ইতিমধ্যেই পরিষেবার আওতায় এসেছে, আগামী এক বছরের মধ্যে বাকি এক তৃতীয়াংশ কৃষককে যুক্ত করে একটি প্রাণিপালনের আদর্শ গ্রাম গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর দীঘা গ্রামবাসীরা, কারণ সাথে আছে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments