আকাশছোঁয়া দাম ও সরবরাহে ঘাটতি! কেন ভারতীয় দম্পতিদের জন্য দুঃসংবাদ বয়ে আনছে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এখন কেবল যুদ্ধবিগ্রহ বা ভূ-রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর প্রভাব ভারতের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও পড়তে শুরু করেছে। ভারতের ৮,০০০ কোটি টাকার কনডম শিল্প বর্তমানে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে, যা ‘কনডম কেলেঙ্কারি’ বা বড় ধরনের সরবরাহ বিভ্রাট হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতার কারণে পণ্য পরিবহনের প্রধান সামুদ্রিক পথগুলো বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এবং কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক সংকট নয়, বরং ভারতের জনস্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির জন্যও একটি বড় বিপদ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
চলমান উত্তজনা ও যুদ্ধের প্রভাবে ভারতের ৮,০০০ কোটি টাকার কনডম শিল্পে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে । মূলত পণ্য সরবরাহেরপ্রধান এলএলএলন পথগুলো (যেমন- হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগর) ব্যাহত হওয়ায় কাঁচামালের তীব্রl সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে বাজারে কনডমের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কনডম তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতি দেখা দিয়েছে
অ্যামোনিয়া (Ammonia) কাঁচা ল্যাটেক্সকে স্থিতিশীল রাখতে এটি অপরিহার্য। ভারত তার চাহিদার প্রায় ৮৬% অ্যামোনিয়া উপসাগরীয় দেশগুলো (যেমন- সৌদি আরব, কাতার ও ওমান) থেকে আমদানি করে । যুদ্ধের কারণে এর দাম প্রায় ৪০-৫০% বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।
সিলিকন অয়েল (Silicone Oil) এটি লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে এর সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল এবং পিভিসি -র মতো প্যাকেজিং উপকরণের দামও বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়েছে।
সরকারি সংস্থা HLL Lifecare, এছাড়া Mankind Pharma এবং Cupid Ltd সংকটের কথা জানিয়েছে।জনপ্রিয় ব্র্যান্ড যেমন- Durex, Manforce, Skore, এবং KamaSutra-র মতো পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই সংকট কেবল ব্যবসায়িক ক্ষতি নয় বরং বড় সামাজিক সমস্যাও দাম বেড়ে গেলে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে কনডম সহজলভ্য থাকবে না, যা পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ বৃদ্ধি এবং যৌনবাহিত রোগের (STI) প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অদূর ভবিষ্যতে যদি এই কাঁচামালের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ ও যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। সুতরাং, মধ্যপ্রাচ্যের এই রণক্ষেত্রের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভারতের কনডম বাজার যে এক অনিশ্চিত ও ‘পিচ্ছিল’ পথে হাঁটবে, তা বলাই বাহুল্য। বিশ্ব রাজনীতির জল যে শেষ পর্যন্ত ঘরের অন্দরে ঢুকে পড়বে, এই ‘কনডম কেলেঙ্কারি’ বা সংকট তারই এক জলজ্যান্ত প্রমাণ।

