Tuesday, April 28, 2026
- Advertisement -

আরামবাগে তুলকালাম: সাংসদ মিতালি বাগের ওপর হামলা, সিসিটিভি দেখে কড়া হুঁশিয়ারি অভিষেকের

- Advertisement -

আরামবাগে তুলকালাম: সাংসদ মিতালি বাগের ওপর হামলা, সিসিটিভি দেখে কড়া হুঁশিয়ারি অভিষেকের

অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে উত্তপ্ত হয়ে উঠল হুগলির আরামবাগ। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় যাওয়ার পথে হামলার মুখে পড়েন তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ। তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং কাঁচ ছিটকে এসে তিনি আহত হন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর আহত সাংসদকে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দেখতে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতাল থেকে বেরিয়েই আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে হুঙ্কার ছাড়েন অভিষেক।

সাংসদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর প্রধান বক্তব্য ছিল এই যে,

 

অভিষেক সাফ জানিয়েছেন, “আমি জানি হামলায় কারা যুক্ত। সামনে যত সিসিটিভি ক্যামেরা আছে, সেই ফুটেজ দেখে দেখে আক্রমণকারীদের বেছে বেছে বের করব।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আরামবাগে তৃণমূল জিতুক বা হারুক, ৪ মে-র পর থেকে তিনি নিজে এই এলাকার দায়িত্বে থাকবেন এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করবেন।

তিনি দাবি করেন, এই হামলার পেছনে নির্দিষ্ট কিছু স্থানীয় দুষ্কৃতী জড়িত এবং তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় আরামবাগের গোঘাট এলাকায় তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগের গাড়ির ওপর লাঠিসোটা ও পাথর নিয়ে হামলা চালানো হয়। গাড়ির সামনের কাঁচ সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়।মিতালি বাগ কান্নায় ভেঙে পড়ে অভিযোগ করেন যে, বিজেপি প্রার্থীর কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়।এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি শিবির। তাদের পাল্টা দাবি, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে এবং সহানুভূতি পেতেই তৃণমূল এই ধরণের সাজানো নাটকের আশ্রয় নিচ্ছে।

সব মিলিয়ে আরামবাগের মাটি এখন তপ্ত। নির্বাচনী মরশুমে সাংসদের ওপর আক্রমণের এই ঘটনা কোনো সাধারণ বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া ‘হুঁশিয়ারি’ এবং অন্যদিকে বিরোধীদের ‘সাজানো নাটক’ তকমা—দুই মেরুর এই লড়াই এখন সম্পূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে আছে তথ্যের ওপর। নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশের সিসিটিভি ফুটেজ তদন্তের হাত ধরেই শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে আসবে প্রকৃত সত্যি। তবে এই পারস্পরিক দোষারোপের খেলায় শেষ পর্যন্ত কি সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক নিরাপত্তা বজায় থাকবে? উত্তর লুকিয়ে আছে সময়ের গর্ভেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments