চেনা গণ্ডি ছেড়ে নাপিতের বেশে বিধায়ক!
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই রাজ্যের প্রতিটি কোনায় শুরু হয়েছে প্রার্থীদের জোরদার প্রচার। তবে সাধারণ মানুষের নজর কাড়তে এবং ভোটারদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে প্রার্থীরা এখন প্রথাগত পথ ছেড়ে বেছে নিচ্ছেন নানা অভিনব পন্থা। কেউ মাঠে নেমে ধান কাটছেন, কেউ গরিবের হেঁশেলে ঢুকে খুন্তি নাড়ছেন। কিন্তু বীরভূমের দুবরাজপুরে যা ঘটল, তা এক কথায় নজিরবিহীন। রাস্তার ধারের এক সাধারণ সেলুনে ঢুকে খোদ বিজেপি বিধায়ক তথা বর্তমান প্রার্থীকে দেখা গেল নাপিতের ভূমিকায়, হাতে ক্ষুর নিয়ে ভোটারের দাড়ি কাটতে। এই ঘটনাটি বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূম জেলার দুবরাজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বালিজুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কুলেখুরি গ্রামে। রোববার ২২ মার্চ দুপুরে যখন রোদ উপেক্ষা করে প্রচার চলছিল, ঠিক তখনই এই কাণ্ড ঘটে। দুবরাজপুরের বিজেপি প্রার্থী ও বিদায়ী বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা ওইদিন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করছিলেন। পথে তিনি দেখেন এক ব্যক্তি রাস্তার ধারের দোকানে দাড়ি কাটাচ্ছেন। অনুপ বাবু হঠাৎই সেখানে থেমে যান এবং নাপিতের হাত থেকে ক্ষুর ও সরঞ্জাম চেয়ে নেন। এরপর অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে তিনি নিজেই ওই ভোটারের দাড়ি কামিয়ে দেন। বিধায়ককে এভাবে সাধারণ মানুষের কাজ করতে দেখে সেখানে ভিড় জমে যায়। অনুপ সাহার দাবি, তিনি নিজেকে বড় কেউ মনে করেন না, বরং মানুষের সেবক হিসেবেই থাকতে চান। এই কাজের মাধ্যমে তিনি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সাথে তাঁর নিবিড় সম্পর্কের বার্তা দিতে চেয়েছেন। বীরভূমের রাজনীতিতে এমনিতেই প্রচারের লড়াই বেশ তুঙ্গে। ভোটারদের মন জয়ের এই প্রতিযোগিতায় এই ‘দাড়ি কাটার’ কৌশলটি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরাল হয়েছে। অনেকে এটিকে নিছক ‘ভোটের গিমিক’ বললেও, বিধায়কের অনুগামীরা একে তাঁর সরলতা ও জনসংযোগের অনন্য নিদর্শন হিসেবেই দেখছেন।
ভোটের ময়দানে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে প্রার্থীরা এখন আর কেবল সভা-সমাবেশ বা ভাষণে সীমাবদ্ধ নেই। বীরভূমের দুবরাজপুরে বিধায়ক অনুপ সাহার এই ক্ষুর হাতে দাড়ি কাটার ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিরোধীরা একে ‘ভোটের গিমিক’ বা সস্তা প্রচার বলে কটাক্ষ করলেও, সাধারণ ভোটারদের একাংশ বিষয়টিকে বিধায়কের অমায়িক ব্যবহার ও মাটির কাছাকাছি থাকার প্রমাণ হিসেবেই দেখছেন। শেষ পর্যন্ত এই অভিনব জনসংযোগ ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

