দিনভর উত্তেজনা ছাপিয়ে শেষ হাসি হাসল গেরুয়া শিবির
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: এক দশকেরও বেশি সময়ের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল (৪ঠা মে) স্পষ্ট হতেই দেখা যাচ্ছে, ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে বাংলায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে গেরুয়া শিবির। উত্তর থেকে দক্ষিণ—রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই ঘাসফুলকে সরিয়ে ফুটেছে পদ্মফুল। দীর্ঘ লড়াই আর টানটান উত্তেজনার পর বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন ঘটে গেল।
দক্ষিণবঙ্গের যে দুর্গগুলোতে তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, সেখানে বড়সড় ধস নেমেছে। বর্ধমান, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং হুগলির মতো জেলায় বিজেপি অভাবনীয় ফল করেছে। বিশেষ করে মতুয়া বেল্ট এবং উত্তরবঙ্গে গেরুয়া ঝোড়ো হাওয়া ছিল অব্যাহত। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, দুর্নীতির অভিযোগ এবং বিজেপির সুসংগঠিত প্রচারই এই জয়ের মূল চাবিকাঠি।
কলকাতাসহ পার্শ্ববর্তী কিছু এলাকায় তৃণমূল লড়াই দিলেও জেলাগুলোতে কার্যত ধরাশায়ী হয়েছে রাজ্যের শাসক দল। একের পর এক হেভিওয়েট মন্ত্রী ও তৃণমূল নেতার পরাজয় দলকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে যুব নেতৃত্বের ওপর মানুষের অনাস্থা এবং গ্রামীণ বাংলায় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ব্যালট বক্সে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
দিনের শেষে ফলাফল স্পষ্ট হতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উল্লাসে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। শঙ্খধ্বনি আর জয় শ্রী রাম ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে জেলা অফিসগুলো। জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে জায়গায় জায়গায় বিজয় মিছিল শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই জয়কে “বাংলার মানুষের আসলি পরিবর্তন” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে ৪ঠা মে ২০২৬ এই দিনটি এক সন্ধিক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। পরিবর্তনের পরিবর্তন ঘটিয়ে মানুষ এবার আস্থা রেখেছে গেরুয়া শিবিরের ওপর। এখন সবার নজর রাজভবনের দিকে, যেখানে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে জয়ের আনন্দের পাশাপাশি রাজ্যে যাতে ভোট-পরবর্তী হিংসা ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে কড়া নজর রাখার বার্তা দিয়েছে কমিশন ও প্রশাসন।

